ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল চার শিশুর

ময়মনসিংহের তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) গৌরীপুর, ফুলপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো—গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে রিয়ামনি (৮) ও ইলমা আক্তার (৪)। রিয়ামনি স্থানীয় বীর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অন্য দুজন হলো—ফুলপুর উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের মো. সায়েদুল ইসলামের মেয়ে লামিয়া আক্তার (৪) ও গফরগাঁও উপজেলার বাগুয়া গ্রামের শামছুল আলমের মেয়ে মুনতাহা আক্তার (২)।
গৌরীপুরে মারা যাওয়া শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে ছোট বোন ইলমাকে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে যায় রিয়ামনি। খেলতে গিয়ে কাদায় পড়ে যায় ইলমা। তাকে পরিষ্কার করার জন্য পুকুরে নামলে একপর্যায়ে ইলমা গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ছোট বোনকে বাঁচানোর চেষ্টায় মুহূর্তেই পানিতে ঝাঁপ দেয় রিয়ামনি। কিন্তু সাঁতার না জানায় কেউ আর তীরে ফিরতে পারেনি।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আট বছর বয়সী প্রতিবেশী শিশু সুমাইয়া দৌড়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। স্বজনরা দ্রুত ছুটে এসে রিয়ামনিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ইলমাকে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খুঁজে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুকুর থেকে ইলমার মরদেহ উদ্ধার করে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। ফলে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ফুলপুরে মারা যাওয়া শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সবার অলক্ষ্যে পানিতে পড়ে লামিয়ার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে নিহত শিশুর বাবা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের আবেদন করলে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
গফরগাঁওয়ে মারা যাওয়া শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় দুই বছর বয়সী শিশু মুনতাহা। কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. লাবিবা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।




