মারধরের প্রতিবাদ করা নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজনকে মারধরের সময় প্রতিবাদ করায় এক নারীকে পিটিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর হাতে লাঠি নিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে করে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে উপস্থিত এক নারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন পুরুষকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন চেয়ারম্যান। ওই নারী প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন সকালে মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
বিভাষ সরকার নুপুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মির্জাপুর উপজেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। সম্প্রতি একটি জমির ওপর দিয়ে একটি বিদ্যালয়ের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। এ নিয়ে বাসন্তী রানী নামে এক নারীর পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
বাসন্তী রানী জানান, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পর পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেলে চেয়ারম্যান তাদের জমির ওপর দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে বাধা দেওয়ায় তাকে ও তার স্বামী রামগোপাল সাহাকে মারধর করা হয়।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান রাস্তার অজুহাতে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে রাস্তা তৈরিতে বাধা দেওয়ায় তিনি কঞ্চি দিয়ে তাদের আঘাত করেছেন।
মহেড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি নারীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানো উচিত ছিল।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও দেখেছি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





