জামায়াত এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় কন্যার নাম

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার কন্যার নাম পাওয়া গেছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া তালিকার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ছড়িয়ে পড়া চিঠিতে দেখা যায়, তালিকাটি সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে গত ১৮ জুন অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে এক লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার অনুদান অনুমোদন রয়েছে।
তালিকায় প্রথম সারিতে হবোখালী গ্রামের ফাইজা, পিতা মো. বাচ্চুর নামে ১০ হাজার টাকা এবং অষ্টম সারিতে ফাইজা, পিতা মো. আতাউরের নামে ১০ হাজার টাকা অনুদানের উল্লেখ রয়েছে।
এ দুই নামের মধ্যে একজন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর কন্যা উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু এশিয়া পোস্টকে বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি বছরে একটি ঐচ্ছিক তহবিল পান। শপথ নেওয়ার পর চলতি অর্থবছরে তার আসনের জন্য এক লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় তিনি তার ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচিত কয়েকজনের নাম দিয়ে তালিকা পাঠিয়ে দেন। তিনি নিজে তালিকাটি দেখার সুযোগ পাননি বলেও দাবি করেন।
সংসদ সদস্য আরও জানান, এখনও ওই অর্থ তার হাতে আসেনি। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নতুন তালিকা পাঠানো হবে।
সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী পাঁচ বছরে স্পর্শ করবে না। যারা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও আমার অফুরন্ত দোয়া রইল।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম. রাহসিন কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয় যাদের নামে ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটার দেন, তারাই ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান পান। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।






