বড় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গর্ভের সন্তান হারালেন ছোট বোন

ফরিদপুরের সদরপুরে বড় বোনকে মারধরের খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন ময়না আক্তার নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তার।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়না আক্তারকে দেখা যায়। এর আগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ভাষানচর ইউনিয়নের নতুনবাজার গ্রামের আব্দুল জলিল খানের বড় মেয়ে পারভিন বেগম কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেন। তিনি বালাডাঙ্গা এলাকায় জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। স্বামী না থাকায় তিনি একাই সেখানে থাকেন। দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী মজিবর, মোজাফফর, বাবলুসহ কয়েকজন তার জমি দখলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পারভিন বেগমের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছোট বোন ময়না আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি হামলার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তার ওপরও হামলা চালায়। ময়না বারবার জানান যে, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু তারা হামলা থামায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার পেটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ময়না আক্তার বলেন, ‘আমি শুধু হামলার ভিডিও করতে গিয়েছিলাম। বারবার বলেছি, আমার পেটে তিন মাসের সন্তান আছে। এরপরও তারা আমার পেটে আঘাত করে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার সন্তানকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
পারভিন বেগম বলেন, জমি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি ও মারধর করা হচ্ছে। ঘটনার সময় আমি হাতজোড় করে বলেছিলাম, আমার বোন অন্তঃসত্ত্বা, তাকে যেন না মারা হয়। কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি।
থানায় মামলা করা হলেও তাদের অভিযোগের সব বিষয় মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন পারভিন বেগম।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার জানান, আঘাতজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার গর্ভপাত হয়েছে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে মামলায় গর্ভপাতের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
.png)






