বেরোবিতে পদোন্নতি বঞ্চিত বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বেরোবি
বেরোবিতে পদোন্নতি বঞ্চিত বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, প্রশাসন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, আপগ্রেডেশন দিলেও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি,আপগ্রেডেশন আটকে রেখেছে। ফলে তাদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

Advertisement

কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত প্রায় ১৮ জন ৭ম গ্রেডের কর্মকর্তার আপগ্রেডেশনের সময় পূর্ণ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের নেতাকর্মীসহ দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ৫ম গ্রেডের প্রায় ১০ জন কর্মকর্তা।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, গ্রন্থাগারিক ও রেজিস্ট্রারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে পূর্ণকালীন নিয়োগের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ দপ্তরে পাওয়া যায় না, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষার্থীদের সেবা ব্যাহত করছে। তাই এসব পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত ও পূর্ণকালীনভাবে অফিস করার দাবি জানান তারা।

বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামে সভাপতি হিসেবে ড. মো. রোকনুজ্জামান এক খুদে বার্তায় বলেন, ‘পদোন্নতি সকলের অধিকার, নিয়মিত পদোন্নতি বোর্ড করতে হবে। রেজিস্ট্রার/সমমান পদে ইউজিসির নির্দেশনা মোতাবেক অফিসারদের মধ্য থেকে ফুলটাইম দায়িত্ব দিতে হবে।’

পদোন্নতিবঞ্চিত জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর রহমান বলেন, ‘আমি একযুগ ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত। আমি ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে সহকারী পরিচালক (গ্রন্থাগার) পদে যোগদান করি। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও বারবার পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

তিনি বলেন, ‘২০১৯, ২০২১ ও ২০২৪ সালে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেও কোনো পদোন্নতি পাইনি। অথচ আমার চেয়ে কয়েক মাসের জুনিয়র কর্মকর্তারা একাধিকবার পদোন্নতি পেয়েছেন। একই পদে ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর উচ্চতর গ্রেডের জন্য আবেদন করলেও তা অনুমোদন করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না; যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিদ্যমান নীতিমালার ভিত্তিতে আমার ন্যায্য পদোন্নতি প্রত্যাশা করি।’

পদোন্নতিবঞ্চিত সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার। দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও হয়রানির প্রতিবাদে কর্মকর্তারা কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের আশ্বাসে গত ৯ জুন কর্মবিরতি স্থগিত করা হলেও এখনো বোর্ড সভা আয়োজনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ২৮ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে বোর্ড সভা আয়োজনের কার্যকর উদ্যোগ না দেখা গেলে আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্ত উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের জন্য বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করায় বোর্ডের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বোর্ড সভা আয়োজন করা সম্ভব নয়।’