ভ্যাপিং কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

নিকোটিনযুক্ত ভ্যাপ বা ই-সিগারেট ফুসফুস ও মুখগহ্বরের ক্যানসারের কারণ হতে পারে; এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। অস্ট্রেলিয়ার ইউএনএসডাবলিউ সিডনির (UNSW Sydney) নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে কার্সিনোজেনেসিস জার্নালে।
গবেষণায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে অংশ নেন ক্যানসার গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ফার্মাসিস্ট, সার্জন ও মহামারিবিদরা। গবেষণার নেতৃত্ব দেন বার্নার্ড স্টুয়ার্ট।
গবেষকদের দাবি, যারা ভ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি ভ্যাপ ব্যবহার না করা মানুষের তুলনায় বেশি হতে পারে।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
অনেক দিন ধরেই ই-সিগারেটকে সাধারণ সিগারেটের ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবেও ব্যবহার করেছেন। তবে নতুন গবেষণা বলছে, ভ্যাপ নিজেও আলাদাভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষকরা ই-সিগারেট থেকে তৈরি হওয়া রাসায়নিক পদার্থ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এতে এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে:
- ভোলাটাইল অর্গানিক কেমিক্যাল
- ভারী ধাতু
- হিটিং কয়েল থেকে নির্গত বিষাক্ত কণা
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
গবেষণায় তিন ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়:
- মানুষের শরীরে ডিএনএ ক্ষতি, প্রদাহ ও কোষের ক্ষয়ের চিহ্ন
- প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় ফুসফুসে টিউমার তৈরি হওয়া
- ল্যাব পরীক্ষায় কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রমাণ
সব মিলিয়ে গবেষকদের মতে, ভ্যাপিং ফুসফুস ও মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ঠিক কতজন মানুষ এই কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ফল পেতে আরও সময় লাগবে।
তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ভ্যাপের ব্যবহার
২০০০ সালের শুরুর দিকে ই-সিগারেট বাজারে আসে। বর্তমানে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন ফ্লেভার ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে অনেক কিশোর-তরুণ সহজেই ভ্যাপের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৩ সালে ভ্যাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন চালু করা হলেও এর ব্যবহার পুরোপুরি থামেনি।
‘ডুয়াল ইউজ’ আরও বিপজ্জনক
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অনেক মানুষ সিগারেট ছাড়ার জন্য ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করলেও পরে দুইটিই একসঙ্গে চালিয়ে যান। একে বলা হয় “ডুয়াল ইউজ”।
গবেষকদের মতে, যারা একই সঙ্গে ধূমপান ও ভ্যাপিং করেন, তাদের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।
সতর্কবার্তা
গবেষকরা বলছেন, সিগারেটের ক্ষতি প্রমাণ করতে বিজ্ঞানীদের প্রায় ১০০ বছর সময় লেগেছিল। ভ্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও যেন একই ভুল না হয়, সে বিষয়ে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
তাদের মতে, ভ্যাপকে ‘নিরাপদ’ ভাবার আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
- ভ্যাপিং শুরু না করাই সবচেয়ে নিরাপদ
- যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- কিশোর-কিশোরীদের ভ্যাপের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করুন
- দীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট বা মুখে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান
স্বল্প সময়ের আরাম বা ট্রেন্ডের জন্য নেওয়া একটি অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে - নতুন এই গবেষণা সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে।
সূত্র: ই-ক্যানসার
.png)






