Advertisement
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক

হজম হয় না, অকার্যকর করে কিডনি ও লিভার

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
হজম হয় না, অকার্যকর করে কিডনি ও লিভার
বাঁ থেকে ডা. এম এম মোশফিকুর রশিদ ও অধ্যাপক ডা. মো. আমজাদ হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভয়াবহ শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন টুথপেস্ট ব্যবহারকারী ও অভিভাবকরা। এর মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরাও। তারা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে হজম হয় না। এগুলো পেটে জমা হয়ে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে দিতে পারে কিডনি ও লিভার।

টুথপেস্ট নিয়ে করা পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) গবেষণার ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনসহ (বিএসটিআই) মান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের দাবিও তুলেছেন চিকিৎসকেরা।

রাজধানীর জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্ট্রার ডা. এম এম মোশফিকুর রশিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সাধারণত টুথপেস্ট আমরা গিলে খাই না। যদি ভুলক্রমে গিলে ফেলি, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকজাত উপাদান হওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকলে কোনোভাবেই হজম হয় না। ফলে এগুলো পাকস্থলি থেকে শুরু করে পুরো পরিপাকতন্ত্রে (জিআই সিস্টেম) জমা হয়ে স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ ব্যাহত করে। এ ছাড়া পাকস্থলির এসিড ও এনজাইমের প্রভাবে কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তের সঙ্গে মিশে কিডনি, লিভার, ত্বক ও মস্তিষ্কের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে জমা হতে পারে।

ভারী ধাতুর মতো এসব উপাদানের উপস্থিতি অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ধ্বংস করে দেয় বলে জানান এই চিকিৎসক।

বর্তমানে দেশে পাকস্থলি ও অন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে মোশফিকুর রশিদ বলেন, ‘খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে এবং অল্প বয়সেই ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।’

একাধিক টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় বিএসটিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পণ্য উৎপাদনে গাফিলতি নাকি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল—তা তদন্তের জোর দাবি জানান মোশফিকুর রশিদ। দাঁতের সুরক্ষায় আদৌ মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা যাচাই করতে দন্ত বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

এ অবস্থায় সাধারণ ভোক্তাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে অনুমোদিত ও নিরাপদ প্রমাণিত পণ্য ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে থাকা নকল বা নিম্নমানের সাব-ব্র্যান্ডের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণাগুলো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রন্থোডন্টিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আমজাদ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মানুষের শরীরে প্রতিটি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট সহনীয় মাত্রা বা ফিজিওলজিক লিমিট থাকে। যদি টুথপেস্টে থাকা এই প্লাস্টিক কণাগুলো টক্সিক লেভেল বা বিষক্রিয়ার মাত্রা অতিক্রম করে, তবে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘টুথপেস্ট ব্যবহারের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো পেটে চলে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কিডনিতে জটিলতা, রক্তের বিভিন্ন সমস্যা এবং হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’

এর আগে আজ ইএসডিও পরিচালিত ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। যেখানে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়।