মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, যা বলে ইসলাম

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, যা বলে ইসলাম
নারায়ণগঞ্জে পাইকপাড়ায় অ্যাগ্রো ফার্মে একটি পশুর নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা এলেই কোনো কোনো খামারির মধ্যে পশুকে মানুষের নাম ধরে ডাকার প্রবণতা দেখা যায়। তারা মানুষের নামে গরু-মহিষ বা ছাগলের নাম রাখেন। তাদের পরিচিত তুলে ধরেন মানুষের নামে। কেউ আদর করে নাম রাখেন। কেউ আবার কটাক্ষ, হাস্যরস বা বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো পরিচিত ব্যক্তির নামে পশুর নাম রাখেন। এবারের কোরবানির বেশ কিছু পশুর নাম বিভিন্ন পরিচিত মানুষের নামে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নরেন্দ্র মোদি, মেসি বা নেইমার ইত্যাদি। আমাদের দেশের নায়কদের নামেও কখনো পশুর নাম রাখা হয়। প্রশ্ন হলো, ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?

ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)। তাই কোরবানির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি আচরণে শালীনতা ও সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

শত্রু, অপছন্দের ব্যক্তি বা আলোচিত ব্যক্তিকে ব্যঙ্গ করার জন্য তার নামে পশুর নাম রাখা সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি এবং ইসলামের সৌন্দর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম সে ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬২৭)

মানুষ যেমন পোষা প্রাণীর পরিচয়ের জন্য নাম ব্যবহার করেন, তেমনি কোরবানির পশুকেও কোনো নামে ডাকা যেতে পারে। তবে কোনো মানুষের নামে নাম রাখা বা ডাকা যাবে না। মানুষের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিকে বিদ্রুপ, অপমান বা হেয় করা ইসলামসম্মত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বেশ কিছু বাহন ও পশু ছিল। সেগুলোরও নাম ছিল। তবে কোনোটির নামই মানুষের নামে ছিল না। তাঁর ঘোড়া ছিল সাতটি। প্রত্যেকটির আলাদা নাম ছিল। যথা—এক. সাকবু—এর রং ছিল কালো ও কপালচিতা। দুই. মুরতাযিজ, তিন. লুহাইফ, চার. লেজাজ, পাঁচ. জারিব, ছয়. সাবহাহ, সাত. ওয়ার্দ।

তাঁর খচ্চর ছিল তিনটি। এক. দুলদুল—যা ছিল সাদা-কালো ডোরাকাটা; যা মিসরের রাজা মুকাউকিস তাঁর জন্য হাদিয়া পাঠিয়ে ছিলেন। দুই. ফাজ্জাহ—যা ছিল সাদা। যা রোম সম্রাটের পক্ষে মাআনের গভর্নর ফারওয়া আল জুযামি ইসলাম গ্রহণের পর হাদিয়া পাঠিয়ে ছিলেন। তিন. আরেকটি ডোরাকাটা খচ্চর।

তাঁর গাধা ছিল দুটি। এক. ইয়াফুর বা উফায়ের—যা ছিল সাদা-কালো ডোরাকাটা। দুই. আরেকটি গাধা ফারওয়া আল জুযামি হাদিয়া পাঠিয়ে ছিলেন।

বারিধারা জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের খতিব এবং জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মাসউদ আহমাদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের দেশে কোরবানি এলেই মানুষের নামে পশুর নাম রাখার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিড়াল বা কুকুরকেও কেউ কেউ মানুষের নাম ধরে ডাকেন। মানুষের নামে কোনো পশুর নাম রাখা যাবে না। এটা মানুষের নামের অবমাননা হয়। নামের বিকৃত হয়। ইসলামে মানুষের নামে পশুর নাম রাখা একবারেই নিষেধ।’

মানুষের নামে পশুর নাম না রেখে পশুকে নির্দিষ্ট করার জন্য বা এমনি ডাকার জন্য নাম দেওয়া যেতে পারে। পশুকে ডাকা যেতে পারে ‘লাল, সাদা বা কালো ইত্যাদি নামে, জানালেন মাসউদ আহমাদ।

রাজধানীর মগবাজার রেলগেইট দিলু ব্যাপারী ওয়াক্ফ এস্টেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আদম সন্তান বা মানুষের দাম আছে। আল্লাহ মানুষকে বড় আদর করে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মর্যাদা দিয়েছেন। মানুষের নামে পশুর নাম রাখা উচিত নয়। এটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। নাম বিকৃত করাকে আল্লাহ হারাম করেছেন। এটা কবিরা গুনাহ।’