অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়েছিলেন মহানবী (সা.)

বৃষ্টি আল্লাহর নেয়ামত। বৃষ্টিতে মন প্রফুল্ল হয়। বৃষ্টিতে প্রকৃতিতে ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ বৃষ্টি সম্পর্কে বলেছেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির সময় কিছু আমল করতেন। দোয়া পড়তেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সে সত্তা, যিনি তারা নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয় রহমতকে ছড়িয়ে দেন। তিনিই অভিভাবক, প্রশংসিত।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮)
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর অন্যতম নির্দশন, তিনি বাতাস পাঠান, যেন তা (বৃষ্টি) সুসংবাদ দিতে পারে এবং তিনি তোমাদেরকে স্বীয় রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাতে পারেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৪৬)
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টি পছন্দ করতেন। বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন। তবে তিনি অতিবৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। দোয়া করেছেন।
অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচার দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) অতিবৃষ্টি হলে পড়তেন—
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাল আকামি, ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুতুনিল আওদিয়াতি, ওয়া মানাবিতিশ শাজারি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের পাশের এলাকায় বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ, উঁচু ভূমিতে, পাহাড়ে, উপত্যকার কোলে ও বনাঞ্চলে বর্ষণ করুন।
হাদিসে আছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় এক জুমার দিন নবী (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুইন (আরব গোত্রভুক্ত যাযাবর পশুপালক জনগোষ্ঠী) দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার-পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন। তিনি দুই হাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে একখণ্ড মেঘও দেখিনি। যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ (করে বলছি), (দোয়া শেষে) তিনি দুই হাত (এখনও) নামাননি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খণ্ড উঠে আসল। এরপর তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করেননি, এমন সময় দেখতে পেলাম তাঁর পবিত্র দাঁড়ির ওপর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হলো। এর পরে ক্রমাগত দুই দিন এবং পরবর্তী জুমা পর্যন্ত প্রত্যেক দিন বৃষ্টি হলো।
(পরবর্তী জুমার দিন) সে বেদুইন অথবা অন্য কেউ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ি-ঘর ধসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন তিনি দুই হাত তুলে বললেন—উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা হাওয়া লাই না আলাই না।’ অর্থ: হে আল্লাহ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও), আমাদের ওপর নয়।’ (দোয়ার সময়) তিনি মেঘের এক একটি খণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, আর সেখানকার মেঘ কেটে যাচ্ছিল। এর ফলে চতুর্দিকে মেঘ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের মতো মদিনার আকশ মেঘমুক্ত হয়ে গেল এবং কানাত উপত্যকার পানি এক মাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদিনার) চারপাশের যে কোনো অঞ্চল থেকে যে কেউ এসেছে, সে এ মুষলধারে বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯৩)




