বন্যা ও দুর্যোগে মানুষকে সহায়তা করলে যে সওয়াব পাবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বন্যা ও দুর্যোগে মানুষকে সহায়তা করলে যে সওয়াব পাবেন
বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখো মানুষ। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন লাখো মানুষ। বন্যার্তদের বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই, খাবার নেই, বিদ্যুৎ নেই। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকার সড়ক-মহাসড়কে পানি উঠে স্থল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে চাষের মাছ। ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল হারিয়ে দিশেহারা মানুষ। এ ধরনের বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইমানি দায়িত্ব। এতে আল্লাহ খুশি হন। কেয়ামতের দিন আল্লাহ সাহায্যকারীকে পুরস্কৃত করবেন। তার আমলের ঝুলি সওয়াবে পূর্ণ করে দেবেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির নিজস্ব সৃষ্টি নয়। বরং জল-স্থল, চন্দ্র-সূর্য, আলো-বাতাস বা প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে যা কিছু ঘটে, সেগুলো মহান আল্লারহ সূক্ষ্ম পরিকল্পনারই অংশ। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৬)

বিপদগ্রস্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষকে অন্ন, বস্ত্রদানে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়। কেয়ামতের দিন পাওয়া যায় তাঁর অনুগ্রহ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়ায় মানুষকে খাদ্যদান করেছে, সেদিন (কেয়ামতের দিন) তাকে খাদ্য দান করা হবে। যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য মানুষকে পানি পান করিয়েছে, তাকে সেদিন পানি পান করিয়ে তার পিপাসা দূর করা হবে। যে মানুষকে বস্ত্রদান করেছে, তাকে সেদিন বস্ত্র পরিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ)

আরেক হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিনে বলবেন, হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমার খোঁজ-খবর রাখনি। সে বলবে, হে পরওয়ারদিগার, আমি কী করে আপনার খোঁজ-খবর করব, অথচ আপনি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, আর তুমি তার সেবা করনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি তার সেবা-শুশ্রুষা করলে তার কাছেই আমাকে পেতে।

হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাওনি। সে (বান্দা) বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার, আমি কি করে আপনাকে আহার করাতে পারি। আপনি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। তিনি (আল্লাহ) বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল? তুমি তাকে খেতে দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে আহার করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে।

হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে (বান্দা) বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার, আমি কী করে আপনাকে পান করাব, অথচ আপনি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা আমার কাছে পেতে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৩২২)

দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে নিজের চেয়ে বেশি ভাবা দরকার দুর্গতদের নিয়ে। ইসলামে প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে পূর্ণ আহারকারীর ইমানকে বলা হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন নয়, যে তৃপ্তিসহকারে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী থাকে ক্ষুধার্ত।’ (শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৫৬৬০)

বন্যা কবলিত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ তৎপরতা, শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান, আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।