ভাড়া বাসা থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী পলাতক

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে এক পিকআপচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী রেহেনা বেগম পলাতক রয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে নিমসার এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বাড়ির ভাড়াটিয়া লুৎফুর রহমানের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ইব্রাহিম একই এলাকার সরু হাজির বাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একটি মিনি পিকআপের চালক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ইব্রাহিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমকে নিয়ে নিমসারের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ হতো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। রোববার দুপুরে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে দেখে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। পরে তিনি দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পুলিশ ঘরের দরজা খুলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মঞ্জুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। মরদেহের অবস্থা ও ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত দেখে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।





