২১ দিন পর আন্দোলন প্রত্যাহার সুমেক শিক্ষার্থীদের, কাটল অচলাবস্থা

হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে টানা ২১ দিন ধরে চলা লাগাতার আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের (সুমেক) শিক্ষার্থীরা
রোববার (১১ জুলাই) বিকেলে নবনিযুক্ত উপপরিচালক কর্মস্থলে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করার পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে চলা কলেজের অচলাবস্থার অবসান ঘটল।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সুমেক শিক্ষার্থীদের বৈঠকের পর সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. আহম্মদ হোসেনকে অতিরিক্ত উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিনসহ সুমেকের ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব ও পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে আমরা গত বছরও আন্দোলন করেছি। তখন দ্রুত হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা গত ২১ জুন থেকে আবারও লাগাতার আন্দোলনে নামি। আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয় এবং সরকারের আশ্বাসের প্রথম ধাপ হিসেবে উপপরিচালক যোগদান করেছেন। তিনি হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ নিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করায় আমরা সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, দ্রুত হাসপাতালটি চালুর জন্য সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। যোগদান করেই আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা।
হাসপাতাল চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২১ জুন থেকে লাগাতার ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ, একাডেমিক শাটডাউন, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন সুমেকের শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত এই মেগা প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, মেডিকেল কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, ছাত্রাবাস, ডক্টরস ডরমিটরি ও আবাসিক ভবনসহ প্রায় ২০টি ভবনের কাজই শেষের দিকে। ক্যাম্পাসে চোখধাঁধানো অবকাঠামো থাকলেও পাঁচটি ব্যাচের প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এ ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ৩৯৫ জন লোকবলের চাহিদা থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত মাত্র ৭৪ জনের অনুমোদন দিয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়াও এখনও বাকি।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রায় সব ভবনের কাজ শেষ। বর্তমানে অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও গ্যাস লাইনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। শুধুমাত্র অডিটোরিয়ামের কাজ বাকি রয়েছে, যা ছাড়া অন্য সব ভবন প্রশাসন চাইলেই এখনই হস্তান্তর করা সম্ভব।





