এই মাছগুলো নিয়মিত খেলে সুস্থ থাকতে পারে হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্ক

মাছ বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সব মাছের পুষ্টিগুণ এক রকম নয়। বিশেষ করে কিছু তেলযুক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা হৃদ্যন্ত্র থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত শরীরের নানা অঙ্গের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর নিজে থেকে পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ তৈরি করতে পারে না। তাই এই পুষ্টি উপাদান খাবার থেকেই গ্রহণ করতে হয়। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খেলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যেতে পারে।
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে, প্রদাহ কমাতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।
বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ, বিশেষ করে তেলযুক্ত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেয়।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে
ওমেগা-৩, বিশেষ করে ডিএইচএ, মস্তিষ্কের কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ খাওয়ার উপকারিতা ও মাছের তেলের সাপ্লিমেন্টের উপকারিতা এক বিষয় নয়। প্রাকৃতিক খাবার থেকেই ওমেগা-৩ গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো।
চোখের জন্যও উপকারী
ডিএইচএ চোখের রেটিনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই নিয়মিত ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
মাছে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
অবশ্য শুধু মাছ খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভালো মানের প্রোটিনের উৎস
মাছ শুধু ওমেগা-৩ নয়, উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, আয়োডিন ও সেলেনিয়ামেরও ভালো উৎস।
এসব পুষ্টি উপাদান পেশি, হাড়, স্নায়ু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোন মাছগুলোতে ওমেগা-৩ বেশি?
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছের মধ্যে রয়েছে ইলিশ, সার্ডিন, ম্যাকারেল, হেরিং, স্যামন, ট্রাউট ও অ্যাঙ্কোভি।
বাংলাদেশে সহজলভ্য মাছের মধ্যে ইলিশ ও সামুদ্রিক কিছু তেলযুক্ত মাছ ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস। এছাড়া অন্যান্য দেশি মাছও প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
সপ্তাহে কতটা মাছ খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে একই ধরনের মাছের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মাছ পালা করে খেলে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া সহজ হয়।
মাছ খাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
- অতিরিক্ত তেলে ভাজা মাছের বদলে ভাপা, ঝোল, গ্রিল বা বেক করা মাছ বেছে নিন।
- অতিরিক্ত লবণ দিয়ে সংরক্ষিত মাছ নিয়মিত খাবেন না।
- গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি পারদযুক্ত কিছু সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
- শুধু মাছের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্যসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক ও শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারই সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই নিয়মিত মাছ খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮





