বর্ষাকালে এই খাবারগুলোই হতে পারে অসুস্থতার কারণ

বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় কিছু খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং তাতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। ফলে এসব খাবার খেলে ফুড পয়জনিং, পেটের সংক্রমণ, বদহজম ও ডায়রিয়ার মতো নানা স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, সে সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
বর্ষাকাল আর টানা বৃষ্টি অনেকের প্রিয়। তবে এই সময় আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে খাদ্য দূষণ, পেটের সংক্রমণ, বদহজম ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই এই মৌসুমে শুধু কী খাবেন তা নয়, কী খাবেন না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিবিদদের মতে, বর্ষায় খাবার নির্বাচন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকলেই অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার
বৃষ্টির দিনে পেঁয়াজু, বেগুনি, পুরি বা অন্যান্য ভাজাপোড়া খাবার খেতে ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়। এতে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তি বাড়তে পারে।
মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে, তবে নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো।
রাস্তার খোলা খাবার
বর্ষায় রাস্তার পাশের খোলা খাবারে ধুলাবালি, মাছি এবং জীবাণু সহজেই বসতে পারে। এছাড়া অনেক সময় খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত পানি নিরাপদ নাও হতে পারে।
ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি বা অন্যান্য খোলা খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি গরম ও টাটকা খাবার বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
কাঁচা পাতাযুক্ত শাকসবজি
শাকসবজি পুষ্টিকর হলেও বর্ষায় এগুলোর পাতার ভাঁজে মাটি, জীবাণু বা ক্ষুদ্র পোকামাকড় লেগে থাকতে পারে।
তাই কাঁচা সালাদ হিসেবে খাওয়ার বদলে ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
আগে থেকে কেটে রাখা ফল
দোকানে আগে থেকে কেটে রাখা ফল দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় থাকলে সহজেই জীবাণু দ্বারা দূষিত হতে পারে।
বর্ষাকালে পুরো ফল কিনে বাসায় ভালোভাবে ধুয়ে নিজেই কেটে খাওয়াই বেশি নিরাপদ।
দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা রান্না করা খাবার
আর্দ্র আবহাওয়ায় রান্না করা খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে। অনেকক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে।
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে না রেখে প্রয়োজন হলে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করে নিন।
অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার
অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয় বা বেশি চিনি থাকা খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। বর্ষাকালে সুষম খাবারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরিষ্কার পানি ও বরফ
বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অপরিশোধিত পানি, রাস্তার শরবত বা অজানা উৎসের বরফ ব্যবহার করা পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
সব সময় ফুটানো, ফিল্টার করা বা নিরাপদ পানিই পান করুন।
বর্ষায় কী খাবেন?
কিছু খাবার এই সময়ে হজমের জন্য তুলনামূলক ভালো এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
- টাটকা ও গরম রান্না করা খাবার
- ডাল বা সবজির স্যুপ
- আদা, হলুদ, রসুন ও গোলমরিচের মতো মসলা
- দই, যদি শরীরের জন্য উপযোগী হয়
- ওটস, লাল চাল বা অন্যান্য পূর্ণ শস্য
- পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি
সুস্থ থাকতে আরও কিছু অভ্যাস
খাবারের পাশাপাশি কিছু সাধারণ অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
- খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- ফল ও সবজি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
- খাবার ঢেকে রাখুন।
- রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুন।
- বাইরে খাওয়ার বদলে যতটা সম্ভব ঘরে তৈরি খাবার খান।
মনে রাখবেন, বর্ষায় কোনো একটি খাবারই পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। আসল বিষয় হলো খাবারের পরিচ্ছন্নতা, সঠিক সংরক্ষণ এবং পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস। টাটকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিলে এবং সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলে এই মৌসুমেও পেটের সংক্রমণ ও খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: গোকি





