দেড় বছরে বগুড়ার সড়কে ঝরেছে ১৮৩ প্রাণ

বগুড়ায় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় বছরে (২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত) সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে গড়ে প্রতি তিন দিনে একজন মানুষ সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কিশোর ও তরুণ মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১২০ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আরও ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত দেড় বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৩ জন।
চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১০ জন, মার্চে ১৪ জন, এপ্রিলে ১২ জন এবং মে মাসে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। পাঁচ মাসে নিহতের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়ও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল আরোহী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা হেলমেট ছাড়া অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েই তাদের মৃত্যু হচ্ছে। অনেকেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে না। আবার অনেকেই ট্রাফিক আইন অমান্য করে মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেল চালান।
তবে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, পুলিশের এই পরিসংখ্যানই চূড়ান্ত চিত্র নয়, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে তার স্বজনেরা আইনি ঝামেলা এড়াতে বিষয়টি পুলিশকে জানান না। ফলে লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত বা মামলা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়। এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা পুলিশের পরিসংখ্যানে যুক্ত হয় না।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো কারণ নেই। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, ট্রাফিক আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার, মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট না পরা এবং পথচারীদের অসচেতনতা মিলেই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চালকদের নির্ধারিত লিংক রোড বা পার্শ্বসড়ক ব্যবহার না করার প্রবণতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। কে আগে যাবে, এই প্রতিযোগিতা থেকে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব প্রবণতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ (প্রশাসন) টি আই মো. সালেকুজ্জামান খান বলেন, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পথচারীদের অসচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে তরুণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের অনীহা। অনেকেই উচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালান এবং দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।




