৪৭ কোটির প্রকল্প /চার বছরেও শেষ হয়নি চার ব্রিজ

বাগেরহাটের সাইনবোর্ড–বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি। ফলে পুরোনো, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় চারটি ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, মোরেলগঞ্জের বারইখালী স্টিল ব্রিজ এবং শরণখোলার নলবুনিয়া খালের ব্রিজের নির্মাণকাজ প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শরণখোলার তাফালবাড়ি খালের ব্রিজের কাজ ৩০ শতাংশ অগ্রগতির পর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে শরণখোলার বকুলতলা খালের শ্যামবাড়ি এলাকার ব্রিজটির নির্মাণকাজ এখনো শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চারটি ব্রিজ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির কারণে আগামী সময়েও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ট্রাকচালক আব্দুল মালেক বলেন, পুরোনো সরু ব্রিজ দিয়ে ট্রাক পার হতে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিপরীত দিক থেকে কোনো গাড়ি এলে খুব সতর্ক হয়ে চলতে হয়। সামান্য ভুল হলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

বাসচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হয়। পাশ দিয়ে একটি ভ্যান বা ছোট যানবাহন গেলেও চলাচল করতে সমস্যা হয়। আমরা চাই দ্রুত নতুন ব্রিজগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল করা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দীন বলেন, চার বছর ধরে শুধু কাজ শেষ হওয়ার আশ্বাসই শুনছি। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় স্কুলছাত্রী তানজিলা আক্তার বলে, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বড় গাড়ি আসলে পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। খুব ভয় লাগে। নতুন ব্রিজগুলো দ্রুত নির্মাণ শেষ হলে আমাদের যাতায়াত অনেক নিরাপদ হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।





