সেই লাল কার্ড মেনে নিতে পারছেন না সুইস কোচ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
সেই লাল কার্ড মেনে নিতে পারছেন না সুইস কোচ
মুরাত ইয়াকিন। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড মেনে নিতে পারছেন না সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। ভিএআরের হস্তক্ষেপের পেছনে থাকা নিয়মকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তার দাবি, ওই সিদ্ধান্তই তাদের ম্যাচটি ধ্বংস করে দিয়েছে।

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ের গোলে ১-১ সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। এরপর আর্জেন্টিনার ওপর চাপও বাড়াচ্ছিল তারা। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিট পর ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া ঘটনাটি ঘটে।

মাঝমাঠে এমবোলোর সঙ্গে বলের লড়াইয়ে যান আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এমবোলো মাটিতে পড়ে গেলে পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার নিয়মে ঘটনাটি পর্যালোচনার পরামর্শ দেয় ভিএআর।

মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, পারেদেসের স্পর্শের আগেই পড়ে যেতে শুরু করেছিলেন এমবোলো। ফলে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে অভিনয়ের অভিযোগে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। প্রথমার্ধে আগেই একটি কার্ড দেখায় সেটিই হয়ে যায় তার দ্বিতীয় হলুদ। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ডকে।

ইয়াকিনের মতে, ওই ঘটনায় কাউকেই হলুদ কার্ড দেখানোর প্রয়োজন ছিল না। পরিস্থিতিটি নিরীহ ছিল এবং রেফারির খেলা চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত ছিল।

ম্যাচের পর ইয়াকিন বলেন, এমন একটি নিয়মের কারণে তাদের শাস্তি পেতে হয়েছে, যেটি তার কাছে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। ভিএআরের হস্তক্ষেপ অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং এই নিয়মের সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুইস কোচের ভাষায়, ‘এই নিয়ম আমাদের ম্যাচ ধ্বংস করেছে। এভাবে হারাটা খুবই কষ্টের। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে হচ্ছে।’

ইয়াকিনের দাবি, এমবোলোর লাল কার্ডের আগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছিল সুইজারল্যান্ড। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও তারা সমতা ফিরিয়েছিল এবং তখন ম্যাচের গতি তাদের পক্ষেই ছিল।

এদিকে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার। তার প্রশ্ন, এমন একটি ঘটনায় ভিএআর কীভাবে পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

লাল কার্ড দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। ইয়াকিন অবশ্য ফরোয়ার্ডকে কোনো দোষ দিতে রাজি নন। তার মতে, এমবোলো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন এবং ঘটনাটি ছিল রেফারির ভুল।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ভুল খেলোয়াড় শনাক্ত করার নিয়মটির পরিধি বাড়ায় আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি। নতুন ব্যাখ্যায় এক দলের খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর পর অপর দলের খেলোয়াড়ের অপরাধ ধরা পড়লেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার নিয়মটি এভাবে প্রয়োগ করা হলো।

১০ জন নিয়েও ১১২ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল সুইজারল্যান্ড। পরে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জেতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাতে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ডের স্বপ্নের যাত্রা শেষ হয়।