২২ ঘণ্টার লড়াইয়েও বাঁচানো গেল না আহত মা হাতিকে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কক্সবাজার
২২ ঘণ্টার লড়াইয়েও বাঁচানো গেল না আহত মা হাতিকে
মারা যাওয়া মা হাতি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

প্রায় ২২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংকপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ের পাদদেশে প্রাণীটির মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে খাবারের সন্ধানে পাহাড়ি এলাকায় আসে হাতিটি। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে থাকায় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু খাড়া ঢাল থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। এতে হাতিটির পেটের নিচের অংশ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাত লাগে। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারের ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আনা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেই হাতিটিকে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাতিটিকে দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজন প্রাণীটিকে বাঁচাতে আন্তরিক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে শেষ পর্যন্ত মা হাতিটি মারা গেল। একটি বন্য প্রাণীর এমন হৃদয়বিদারক মৃত্যু আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে।’

টেকনাফ উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে আহত হওয়ার পর থেকেই বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের এনে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু রোববার সকালে হাতিটি মারা যায়। বর্তমানে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে নিরাপদে মাটিচাপা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘হাতিটির পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাশাপাশি পেটেও গুরুতর আঘাত ছিল। দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলেই জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

তিনি আরও জানান, হাতিটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, আহত হাতিটির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বন্য প্রাণীটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছিলেন, হাতিটির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।