এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বেঁচে গেল মেয়ে, প্রাণ দিলেন বাবা

রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় এক মাদ্রাসার সুপার নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার মুহূর্তে নিজের জীবন দিয়ে সাত বছর বয়সি কন্যাসন্তানকে বাঁচিয়ে গেলেও নিজে বাঁচতে পারেননি তিনি। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মডার্ন মোড়ের দক্ষিণে তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম নগরীর জিয়াতপুকুর মাজার শরিফ দাখিল মাদ্রাসার সুপার ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আবুল কাশেম তার সাত বছর বয়সি মেয়েকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে মোটরসাইকেলে করে মহাসড়কের লোকাল লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘আরএম স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রংপুরে প্রবেশের সময় হঠাৎ নিয়ম ভেঙে লোকাল লেনে উঠে পড়ে এবং মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসের ধাক্কা লাগার ঠিক আগের মুহূর্তে আবুল কাশেম অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে সরিয়ে দেন। ফলে মেয়েটি অলৌকিকভাবে অক্ষত ও নিরাপদ থাকে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় চালক ও জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বাসচালক ও তার সহকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রংপুরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।





