বাড়ছে সুরমা নদীর পানি, সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা

ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে যথাক্রমে ১৬ ও ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরে কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৭ দশমিক ২৫ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ছাতক উপজেলায় ৪৭ মিলিমিটার ও তাহিরপুরে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৭ দশমিক ৪৬ মিটারে এবং ছাতক পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৮ দশমিক ৬৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানিয়েছে, আগামী দুদিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের নিকটবর্তী ভারতের মেঘালয় প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরতলীর সুরমা নদীর তীরের ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, গত ৪-৫ দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং সুরমা নদীর পানি বাড়ছে-কমছে। গত রাতে অন্যদিনের চেয়ে বৃষ্টি কম হয়েছে, তবে নদীর পানি কিছু বাড়তে দেখা গেছে। পাহাড়ি ঢলের পানি নামার কারণে নদীর পানি সামান্য বাড়তে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও দুদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি কিছু বেড়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার এক হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




