কিডনির রোগে সবজি নিয়ে বিভ্রান্তি, জেনে নিন কোন ৫টি ভালো

কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খাদ্যতালিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদ্যন্ত্র, হাড় এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে কিডনির রোগীরা সব ধরনের সবজি খাওয়া বন্ধ করে দেবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সবজিই তুলনামূলক কম পটাশিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত। চিকিৎসক বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে এগুলো খাওয়া যেতে পারে।
বাঁধাকপি
বাঁধাকপিতে পটাশিয়াম ও ফসফরাস তুলনামূলক কম থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং আঁশ।
তরকারি, স্যুপ বা ভাজি হিসেবে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কিডনির রোগীদের জন্য এটি জনপ্রিয় একটি সবজি।
ফুলকপি
ফুলকপি কিডনিবান্ধব সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এবং পটাশিয়ামের পরিমাণও তুলনামূলক কম।
সেদ্ধ, ভাপা বা হালকা রান্না করে খেলে এটি স্বাস্থ্যকর একটি বিকল্প হতে পারে।
শসা
শসায় পানি বেশি এবং পটাশিয়াম ও ফসফরাস তুলনামূলক কম। তাই অনেক কিডনি রোগীর খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যায়।
তবে যদি চিকিৎসক তরল গ্রহণ সীমিত রাখতে বলেন, তাহলে শসার পরিমাণ নিয়েও পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ক্যাপসিকাম
লাল বা সবুজ ক্যাপসিকামে পটাশিয়াম তুলনামূলক কম, কিন্তু ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ ভালো।
এটি সালাদ, সবজি বা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা যায়।
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, এটি তুলনামূলক কম পটাশিয়ামযুক্ত সবজির মধ্যেও একটি। এতে এমন কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
রান্নায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার না করে স্বাদ বাড়াতে পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
শুধু সবজি নয়, রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ
কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে শুধু কোন সবজি খাওয়া হচ্ছে তা নয়, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু সবজি কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখা এবং সেদ্ধ করলে পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে এই পদ্ধতি সব খাবারের জন্য সমান কার্যকর নয়। তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী রান্না করা উচিত।
যেসব বিষয় মনে রাখবেন
কিডনির রোগে সবার খাদ্যতালিকা এক রকম হয় না। কারও ক্ষেত্রে পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণ জরুরি, আবার কারও ক্ষেত্রে ফসফরাস, সোডিয়াম, প্রোটিন বা তরল গ্রহণের পরিমাণও সীমিত রাখতে হতে পারে।
তাই শুধু ইন্টারনেটে দেখে কোনো খাবার বেশি বা কম খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। রক্ত পরীক্ষার ফল, কিডনির রোগের ধাপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
মনে রাখবেন, কিডনির রোগ মানেই সব ধরনের সবজি বাদ দেওয়া নয়। বরং সঠিক সবজি নির্বাচন, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করলে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি কিডনির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমানো সম্ভব। তবে খাদ্যতালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই নেফ্রোলজিস্ট বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮





