শেষ দুই ইংলিশ পরীক্ষায় পাস করেনি আর্জেন্টিনা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শেষ দুই ইংলিশ পরীক্ষায় পাস করেনি আর্জেন্টিনা
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। এবার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এ দুই দলের লড়াই মানেই নতুন কিছু। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ তাদের প্রতিটি সাক্ষাৎই তৈরি করেছে গল্প কিংবা বিতর্ক।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। এই পর্বে জয়ী দল নিশ্চিত করবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট। ইংল্যান্ডের সঙ্গে এই ম্যাচ দিয়ে অন্য এক শুরু করতে যাচ্ছেন লিওলেন মেসি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই লড়াইয়ে তিনবার জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনা জিতেছে দুবার, যার একটি ছিল টাইব্রেকারে। সে হিসাবে দুই দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড এগিয়ে রয়েছে। আর ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার সঙ্গে এক ম্যাচ ঘিরে আজও রয়েছে বিতর্ক।

সর্বশেষ ২০০৫ সালের ১২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। সেবার ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি এক গোল ও মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোলে হুয়ান রিকোয়েলমের আর্জেন্টিনাকে ৩-২ গোলে হারায় ব্রিটিশরা। আর্জেন্টিনার হয়ে দুই গোল করেন হার্নান ক্রেসপো ও ওয়াল্টার স্যামুয়েল।

তার আগে ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব ইংল্যান্ড ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।

তবে ফুটবল যে অতীত পরিসংখ্যান, ভবিষ্যদ্বাণী বা সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়, তা বারবার প্রমাণ হয়েছে এই বিশ্বকাপে। তাই যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে ফলাফলের দিক থেকে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই ম্যাচ—১৯৮৬ ও ১৯৯৮। দুটিতেই শেষবার জিতেছিল আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সমালোজিত ও আলোচিত মুহূর্তের জন্ম দেয়।

আগামী বুধবারের সেমিফাইনাল তাই শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; এটি হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম তীব্র ও ঐতিহ্যবাহী এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়।

এদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলছেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ খেলেছেন দুই শতাধিক। অথচ এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো ইংল্যান্ড জাতীয় দলের মুখোমুখি হননি তিনি। সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে।