খাল খনন শেষে প্রকল্পের ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুরের সালথায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল খাল পুনঃখনন কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি নিয়ে নানা অভিযোগ ও অসন্তোষের খবর থাকলেও সালথায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খাল পুনঃখনন কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। কাজ চলাকালে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়। সব খরচ শেষে উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের এত বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, ইউএনও দবির উদ্দিন নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করেছেন। তার তদারকির কারণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির সুযোগ তৈরি হয়নি। শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য বিলও সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে।
তারা বলেন, ইউএনও দবির উদ্দিন অত্যন্ত সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। যোগদানের পর থেকেই সালথায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ও গতি এসেছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রয়োজনীয় খরচ করা হয়েছে, তবে অপ্রয়োজনীয় কোনো খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়নি। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে জনগণের আস্থা বাড়ে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।





