Advertisement

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে ঘরের যেসব কাজ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে ঘরের যেসব কাজ
ছবি : সংগৃহীত

অনেকের কাছে ঘরের কাজ মানেই ঝামেলা। ঘর পরিষ্কার করা মানেই বিরক্তিকর কাজ। বিশেষ করে কোনো উৎসবের আগে বড় ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা ভাবলেই অনেকে ক্লান্ত বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে মনোবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে জেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা বলছেন, ঝাড়ু দেওয়া, মেঝে মোছা বা ঘরের অগোছালো জিনিস গুছিয়ে রাখার মতো কাজ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সাধারণ গৃহস্থালি কাজ মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি ও অর্জনের অনুভূতিও তৈরি করে।

জেন দর্শনে একটি পরিচিত কথা আছে। জ্ঞান লাভের আগে কাঠ কাটা ও পানি বহন করা, জ্ঞান লাভের পরও কাঠ কাটা ও পানি বহন করা। অর্থাৎ দৈনন্দিন সাধারণ কাজের মধ্যেই মানসিক শান্তি ও সচেতনতা খুঁজে পাওয়া যায়।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের কিয়োটোভিত্তিক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী শৌকেই মাতসুমোতো তার বইয়ে লিখেছেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু ধুলো মুছে ফেলার কাজ নয়, এটি মনকেও হালকা করার একটি উপায়।

তার ভাষায়, আমরা ধুলো ঝাড়ি যেন অপ্রয়োজনীয় চিন্তা দূর হয়। আমরা ময়লা পরিষ্কার করি যেন আসক্তি থেকে মুক্ত হতে পারি।

জেন সন্ন্যাসীদের দৈনন্দিন সময়ের বড় একটি অংশই কাটে মন্দির পরিষ্কার ও গোছানোর কাজে। তাদের মতে, এই কাজ মনকে স্থির এবং শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানীরা কী বলছেন

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটভিত্তিক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হলি শিফ বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অনেকটা ধ্যানের মতো কাজ করতে পারে।

তার মতে, ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া বা মেঝে মোছার মতো পুনরাবৃত্তিমূলক শারীরিক কাজ স্নায়ুতন্ত্রকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে। কারণ এসব কাজের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ ও কাঠামো আছে।

তিনি বলেন, এসব কাজের সবচেয়ে বড় দিক হলো কাজ শেষ হওয়ার পর ফলাফল চোখে দেখা যায়। এতে মানুষের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়, যা মানসিকভাবে তৃপ্তি দেয়।

কীভাবে পরিষ্কার করার কাজকে উপভোগ্য করা যায়

অনেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজকে চাপের মনে করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজটিকে দ্রুত শেষ করার বদলে ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে করলে সেটি মানসিক প্রশান্তির একটি অনুশীলনে পরিণত হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

হলি শিফ পরামর্শ দেন, কাজ করার সময় শরীরের নড়াচড়া, পানির তাপমাত্রা বা ঝাড়ু দেওয়ার ছন্দের দিকে মনোযোগ দিন। এতে মন বর্তমান মুহূর্তে থাকে এবং উদ্বেগ কমে।

তার মতে, কাজটিকে শুধু দায়িত্ব হিসেবে না দেখে অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করলেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে।

অগোছালো পরিবেশ মানসিক চাপ বাড়াতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগোছালো ঘর অনেক সময় মনের অস্থিরতাও বাড়ায়। চারপাশে বিশৃঙ্খলা থাকলে মনেও চাপ বা ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে পরিষ্কার ও গোছানো পরিবেশ মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই পরিষ্কার ঘরে বেশি স্বস্তি অনুভব করেন এবং কাজে মনোযোগও ভালো থাকে।

মাতসুমোতোর মতে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আসলে নিজের ও নিজের পরিবেশের প্রতি যত্ন নেওয়ার একটি উপায়।

তিনি বলেন, আমরা শুধু একটি ঘর পরিষ্কার করি না, বরং নিজের চারপাশের জগতের সঙ্গে সম্পর্ককেও যত্ন করি।

মনে রাখবেন, নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবসময় পুরো ঘর একসঙ্গে পরিষ্কার করার চিন্তা মানুষকে আরও ক্লান্ত করে দিতে পারে। তাই ছোট ছোট অংশ দিয়ে শুরু করা ভালো।

হলি শিফ বলেন, একটি টেবিল, একটি শেলফ বা শুধু একটি ঘর পরিষ্কার করেও শুরু করা যায়। এতে মানসিক চাপ কমে এবং কাজ সহজ মনে হয়।

মাতসুমোতোও মনে করেন, সব কিছু নিখুঁতভাবে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা না করে অসম্পূর্ণতাকেও মেনে নেওয়া জরুরি।

তার ভাষায়, প্রকৃতিতে সব কিছুই পরিবর্তনশীল। আপনি ঝাড়ু দেওয়ার পরও আবার পাতা পড়বে। তাই শান্তি আসে নিখুঁত ফলাফলে নয়, বরং যত্ন নিয়ে কাজ করে যাওয়ার মধ্যেই।

কেন পরিষ্কার ঘরে ভালো লাগে

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পরিষ্কার ঘরে ঢুকলে অনেক সময় অদ্ভুত এক স্বস্তি অনুভূত হয়। কারণ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও যত্নের অনুভূতি তৈরি করে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মাতসুমোতো বলেন, যে ব্যক্তি ঘর পরিষ্কার করেছে সে উপস্থিত না থাকলেও তার যত্ন ও সচেতনতার ছাপ পরিবেশে থেকে যায়। আর এই অনুভূতিই অনেক সময় মন্দির বা শান্ত জায়গাগুলোকে আলাদা করে তোলে।

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলো তাই শুধু দায়িত্ব নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার একটি সহজ উপায়ও হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি