আজতেকার উচ্চতা নিয়ে চিন্তায় ইংল্যান্ড কোচ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আজতেকার উচ্চতা নিয়ে চিন্তায় ইংল্যান্ড কোচ
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোর বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু মেক্সিকোর বিপক্ষে পরের ম্যাচের আগে থ্রি লায়ন্সদের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে অন্য ধরনের চ্যালেঞ্জ। সেটি শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ বা কৌশল নয়, মেক্সিকো সিটির উচ্চতা।

শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড খেলবে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২০০ মিটার ওপরে। এই উচ্চতাকেই ইংল্যান্ডের জন্য বড় অসুবিধা মনে করছেন কোচ থমাস টুখেল।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, এত অল্প সময়ে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, ম্যাচের মাঝে ইংল্যান্ডের হাতে মাত্র তিন দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে এমন উচ্চতার সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

টুখেলের মতে, ইংল্যান্ড গরমের জন্য কিছুটা প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও অনুশীলনের কারণে তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু উচ্চতার ব্যাপারটি আলাদা। এর জন্য বেশি সময় দরকার, যা ইংল্যান্ডের হাতে নেই।

জার্মান কোচ মেনে নিয়েছেন, আজতেকার উচ্চতা মেক্সিকোর জন্য বড় সুবিধা। তবে এটিকে অজুহাত বানাতে চান না তিনি। তার বার্তা পরিষ্কার, ইংল্যান্ড এই অসুবিধা আগে থেকেই জানত এবং এখন সেটি সামলিয়েই সামনে এগোতে হবে।

মেক্সিকোর জন্য আজতেকা শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, আবেগের জায়গাও। ঘরের মাঠ, উচ্চতা, দর্শকের চাপ, সব মিলিয়ে সেখানে খেলতে যাওয়া প্রতিপক্ষের জন্য বড় পরীক্ষা। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা মেক্সিকো এখন ঘরের মাঠেই ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

ইংল্যান্ডও সহজ পথে আসেনি। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে আগে গোল হজম করে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছিল তারা। সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় টুখেলের দল। সেই ম্যাচে দলের মানসিক দৃঢ়তায় সন্তুষ্ট ইংল্যান্ড কোচ।

তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের সমীকরণ ভিন্ন। এখানে শুধু ফুটবল নয়, পরিবেশের সঙ্গেও লড়তে হবে ইংল্যান্ডকে। উচ্চতায় বাতাসের চাপ ও অক্সিজেনের প্রাপ্যতা কম থাকে। ফলে দীর্ঘ দৌড়, পুনরুদ্ধার এবং ম্যাচের শেষ ভাগে শারীরিক চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। মেক্সিকো এই পরিবেশে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ থাকবে।

টুখেল তবু ম্যাচটি নিয়ে রোমাঞ্চিত। তার মতে, মেক্সিকোর বিপক্ষে আজতেকায় খেলা একজন ফুটবলারের জন্য বড় অভিজ্ঞতা। এই ম্যাচকে তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দারুণ মঞ্চ হিসেবেও দেখছেন।

ইংল্যান্ডের জন্য আজতেকার স্মৃতিও গভীর। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছিল ইংল্যান্ড। দিয়েগো ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরি সেই ম্যাচকে ফুটবল ইতিহাসের অংশ করে রেখেছে। চার দশক পর আবার বিশ্বকাপে আজতেকায় ফিরছে ইংল্যান্ড।

এবার প্রতিপক্ষ ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা নয়, স্বাগতিক মেক্সিকো। কিন্তু চাপ কম নয়। মেক্সিকো ঘরের মাঠে, আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বকাপের নকআউটে ৪০ বছরের অপেক্ষা ভেঙে এসেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ভ্রমণ, প্রস্তুতি, উচ্চতা ও স্বাগতিক দর্শকের চাপ সামলাতে হবে।

টুখেল আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন, আজতেকার উচ্চতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, সেই অসুবিধা সামলে ইংল্যান্ড মাঠের ফুটবলে কতটা জবাব দিতে পারে।