১৪ বছরের যে পরিসংখ্যান দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে আর্জেন্টিনাকে

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারলে শিরোপা ধরে রাখার আরেকটি সুযোগ পাবে আর্জেন্টিনা। তবে সেই সম্ভাব্য ফাইনালের আগেই লিওনেল মেসিদের জন্য একটি অসুবিধা তৈরি করে রেখেছে সূচি। প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা কম বিশ্রাম পাবে তারা।
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে বুধবার। ফাইনাল নির্ধারিত রয়েছে রবিবার।
এর অর্থ স্পেন কিংবা ফ্রান্সের মধ্যে ফাইনালে ওঠা দলটি প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৯৬ ঘণ্টা পাবে। আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের হাতে থাকবে প্রায় ৭২ ঘণ্টা। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বিশ্রামের কার্যকর সময় আরও কমে যাবে।
দ্য অ্যাথলেটিকের এক বিশ্লেষণ বলছে, এই অতিরিক্ত এক দিনের গুরুত্ব সাম্প্রতিক বড় প্রতিযোগিতাগুলোর ফলাফলে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে।
২০১২ সাল থেকে অনুষ্ঠিত পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ ১৪টি ফাইনালের ১৩টিতেই শিরোপা জিতেছে প্রথম সেমিফাইনালে খেলা দল। অন্য টুর্নামেন্টটি ছিল ২০১৭ নারী ইউরো, যেখানে দুটি সেমিফাইনাল একই দিনে হয়েছিল।
দিনের ব্যবধানে সেমিফাইনাল হওয়া কোনো বড় বিশ্ব বা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১০ সালে। সেবার জার্মানির বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলা স্পেন ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে।
এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সুখ ও দুঃখ দুই ধরনের স্মৃতিই জড়িয়ে আছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানি প্রথম সেমিফাইনাল খেলে চার দিনের বিশ্রাম পেয়েছিল। আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিট খেলার পর টাইব্রেকারে জেতে। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
২০২২ সালে সুবিধাটি পেয়েছিল আর্জেন্টিনাই। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনাল খেলার কারণে ফাইনালের আগে চার দিন বিশ্রামের সুযোগ পায় লিওনেল স্কালোনির দল। এক দিন কম বিশ্রাম পাওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরেন মেসি।
সাম্প্রতিক তিনটি বড় প্রতিযোগিতাতেও ধারাটি বজায় থেকেছে। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ ও ২০২৪ পুরুষ ইউরোর ফাইনালে এক দিন বেশি বিশ্রাম পাওয়া স্পেন ইংল্যান্ডকে হারায়। ২০২৫ নারী ইউরোয় আবার প্রথম সেমিফাইনাল খেলা ইংল্যান্ড টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির একটি উদাহরণ অবশ্য আছে কোপা আমেরিকায়। ২০২১ সালে ব্রাজিলের চেয়ে এক দিন পরে সেমিফাইনাল খেলেও মারাকানার ফাইনালে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা।
তবে এই প্রবণতাই ফাইনালের ফল নির্ধারণ করবে, এমন নয়। প্রতিপক্ষের মান, অতিরিক্ত সময়, ভ্রমণ এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থাও বড় ভূমিকা রাখবে। তারপরও গত ১৪ বছরের ফল বলছে, ফাইনালের আগে অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টা বিশ্রাম ছোট কোনো সুবিধা নয়।
তার আগে অবশ্য ইংল্যান্ড বাধা পেরোতে হবে আর্জেন্টিনাকে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত একটায় আটলান্টায় শুরু হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়া





