দুই দশকের অভিশাপ কাটাল আর্জেন্টিনা

মিশরের বিপক্ষে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠেনি আর্জেন্টিনা, কাটিয়েছে দুই দশকের এক অস্বস্তিকর অপেক্ষাও। বিশ্বকাপে আগে গোল হজম করার পর ম্যাচ জয়ের স্বাদ আর্জেন্টিনা পেয়েছিল সর্বশেষ ২০০৬ সালে, মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে। ২০ বছর পর সেই গল্পই ফিরল আটলান্টায়।
মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুটা ছিল আর্জেন্টিনার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় মিসর। এরপর পেনাল্টি পেয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসির শট ঠেকিয়ে দেন মিসর গোলরক্ষক মোস্তফা শৌবির।
দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ হলে বড় অঘটনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আটলান্টা স্টেডিয়ামে। কিন্তু শেষ ভাগে বদলে যায় ম্যাচের গল্প। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর মেসি নিজেই দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান।
এরপর যোগ করা সময়ে আসে আর্জেন্টিনার জয়। লাউতারো মার্তিনেজের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তাতেই ৩-২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে শেষ আটে উঠে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। আর এই জয়ে ২০ বছর পুরোনো এক অস্বস্তিও দূর করাল মেসিরা।
২০০৬ সালের মেক্সিকো ম্যাচের পর বিশ্বকাপে আগে গোল হজম করলে আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এরপর চারবার এমন অবস্থায় পড়েও জিততে পারেনি তারা। এবার মিসরের বিপক্ষে সেই অস্বস্তির ইতিহাস বদলে দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই জয় তাই শুধু স্কোরলাইন নয়, আর্জেন্টিনার মানসিক শক্তিরও ঘোষণা। পেনাল্টি মিস করেও, দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও, বিদায়ের কিনারায় দাঁড়িয়েও তারা ফিরে আসতে পারে। স্কালোনি আগেই বলেছিলেন, কঠিন মুহূর্তে এই দলের চরিত্রই ভরসা। মিসরের বিপক্ষে সেটিরই বড় প্রমাণ দিল মেসির আর্জেন্টিনা।




