রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল
পর্তুগাল দল। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচের পর প্রশ্ন উঠেছিল অনেক। পর্তুগাল কি ছন্দ হারিয়েছে? ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কি এখনো বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন? ৪১ বছর বয়সে তাকে ঘিরে আলোচনার চেয়ে সংশয়ই যেন বেশি শোনা যাচ্ছিল। হিউস্টনে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিলেন রোনালদো। তার জোড়া গোলে ছন্দে ফিরল পর্তুগালও।

Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। জোড়া গোল করেছেন রোনালদো। একটি করে গোল নুনো মেন্দেস ও রাফায়েল লেয়াওর। অন্য গোলটি আত্মঘাতী। তবে বড় স্কোরলাইন ছাপিয়ে রাতটা স্মরণীয় হয়ে থাকল রোনালদোর জন্য। বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি।

পর্তুগালের জন্য ম্যাচটি ছিল শুধু জয়ের নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল রবার্তো মার্তিনেজের দল। সেই ম্যাচে পর্তুগালের আক্রমণ ছিল ধীর, রোনালদোও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুরু থেকেই দেখা গেল অন্য রূপ। বলের গতি বেশি, দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ ধারালো, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ পরিষ্কার। আর সামনে রোনালদো, যিনি এখনো জানেন কখন কোথায় দাঁড়াতে হয়।

ম্যাচের ৬ মিনিটেই পর্তুগাল এগিয়ে যায়। ডান দিক দিয়ে জোয়াও কানসেলোর মাপা ক্রসে বক্সে বল পান রোনালদো। কাছ থেকে তার শট ছিল নিখুঁত। গোলের পর হিউস্টনের গ্যালারি যেন একসঙ্গে গর্জে ওঠে। রোনালদোর চেনা উদ্‌যাপনও ফিরে আসে। এই গোলেই তৈরি হয় ইতিহাস। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২-এর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোল—ছয় আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার রোনালদো।

এই গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। সবাই ভাবছিলেন রোনালদো হয়তো শট নেবেন। কিন্তু মেন্দেস বাঁ পায়ের দারুণ শটে বল পাঠান জালে। উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভের পক্ষে সেটি ঠেকানো কঠিনই ছিল।

২৯ মিনিটে উজবেকিস্তান একবার ম্যাচে ফেরার আশা দেখিয়েছিল। আজিজ গনিয়েভ দূরপাল্লার অসাধারণ শটে বল জালে পাঠান। কিন্তু আক্রমণ গড়ে ওঠার আগে ফাউলের কারণে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। গোলটি থাকলে ম্যাচের আবহ কিছুটা বদলাতে পারত। কিন্তু সেটি না হওয়ায় পর্তুগাল আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

৩৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোল করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। ৪১ বছর বয়সেও তাঁর দৌড়, জায়গা নেওয়া ও শেষ মুহূর্তের স্থিরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই পর্তুগালের লিড ৩-০। ম্যাচ তখন কার্যত মার্তিনেজের দলের হাতেই।

প্রথম গোলে রোনালদো পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে ইউসেবিওর ৯ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন। দ্বিতীয় গোলে তাঁকে ছাড়িয়ে যান। বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল এখন ১০। মেসি, এমবাপে, হলান্ডদের গোলের আলোচনার মাঝেও নিজের জায়গা আবার মনে করিয়ে দিলেন পর্তুগিজ তারকা।

বিরতির পর পর্তুগাল গতি কিছুটা কমালেও নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি। ৬০ মিনিটে আসে চতুর্থ গোল। কর্নারের পর বক্সে জটলার মধ্যে বল প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জালে যায়। গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে ধরা হয়। এরপর ম্যাচের বাকি সময়টা অনেকটাই পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণে কাটে। রোনালদো হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন, কিন্তু আর গোল পাননি।

শেষ দিকে বদলি নেমে স্কোরলাইন আরও বড় করেন রাফায়েল লেয়াও। ৮৮ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা আক্রমণে বল তাঁর সামনে চলে আসে। সেখান থেকে এক ছোঁয়ায় জোরালো শটে গোল করেন তিনি। এতে ৫-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।

ম্যাচের পরিসংখ্যানও পর্তুগালের আধিপত্যের কথাই বলে। শট, পাস, বলের দখল—সব দিকেই এগিয়ে ছিল তারা। প্রথম ম্যাচে যেখানে আক্রমণ আটকে যাচ্ছিল, সেখানে এই ম্যাচে পর্তুগাল অনেক বেশি সরাসরি, দ্রুত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে।

উজবেকিস্তানের জন্য রাতটি ছিল কঠিন। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারের পর এবার পর্তুগালের কাছে বড় ব্যবধানে হারল ফাবিও ক্যানাভারোর দল। তারা কিছু মুহূর্তে সাহস দেখিয়েছে, কিন্তু পর্তুগালের গতি, মান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো ধারাবাহিকতা ছিল না।

পর্তুগালের জন্য জয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ ‘কে’-তে অবস্থান শক্ত করল। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইও এখন সামনে। প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের পর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় সেটি অনেকটাই কমিয়ে দিল।