ইরান দলের ভ্রমণ বিধিনিষেধ শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের ভ্রমণ জটিলতা কিছুটা কমাল যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে দুই দিন আগে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগে তাদের ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সুযোগ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মঙ্গলবার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি। ইরান দলকে ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রটোকল আগের মতোই থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইরানের শেষ গ্রুপ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে। প্রতিপক্ষ মিসর। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি হবে ২৭ জুন সকাল ৯টায়। এই ম্যাচের আগে তারা আগের নিয়মের তুলনায় এক দিন বেশি প্রস্তুতির সময় পাবে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভ্রমণ, বিশ্রাম ও অনুশীলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সিদ্ধান্তটি ইরান দলের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
এর আগে ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ম্যাচের এক দিন আগে ঢুকতে পারত এবং ম্যাচ শেষে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতো। টুর্নামেন্টে ইরানের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। সেখান থেকেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছিল। এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ইরান দলের ভেতরে অসন্তোষ ছিল।
ইরান কোচ আমির ঘালেনোয়ি আগেই বলেছিলেন, তার দল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা দলগুলোর একটি। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার কাছে অভিযোগ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, এ ধরনের বিধিনিষেধ সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং দলের প্রস্তুতিতে বাধা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, খেলোয়াড়, স্টাফ ও সমর্থকদের জন্য নিরাপদ টুর্নামেন্ট নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। সেই কারণে সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রটোকলে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
এই ভ্রমণ বিধিনিষেধ এসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে। সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত। সেই বাস্তবতার মাঝেই ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হচ্ছে। ইরানের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তাই শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল।
ইরান তাদের প্রথম দুই গ্রুপ ম্যাচে ড্র করেছে। সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই তাদের শেষ ৩২-এ ওঠার হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময়ে এক দিন বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ তাদের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারে। তবে ম্যাচ শেষে দ্রুত দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ভ্রমণ চাপ পুরোপুরি কমছে না।
ফিফা ও ইরান দলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।






