জোড়া গোলের রাতে রোনালদোর তিন কীর্তি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
জোড়া গোলের রাতে রোনালদোর তিন কীর্তি
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচের পর প্রশ্ন উঠেছিল অনেক। কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র, রোনালদোর নিষ্প্রভ রাত, পর্তুগালের আক্রমণে ধার না থাকা, সব মিলিয়ে সমালোচনা ঘিরে ধরেছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। কিন্তু বড় মঞ্চে নিজের গল্প নিজে লেখার অভ্যাস তার পুরোনো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সেই পুরোনো দৃশ্যই আবার দেখা গেল।

Advertisement

হিউস্টনে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। জোড়া গোল করেছেন রোনালদো। আর এই দুই গোলেই এক রাতের মধ্যে তিনটি বড় রেকর্ড গড়েছেন ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ তারকা।

প্রথম রেকর্ডটি আসে ম্যাচের ৬ মিনিটেই। ডান দিক দিয়ে জোয়াও কানসেলোর দারুণ দৌড়, এরপর নিচু কাটব্যাক। বক্সে জায়গা নেওয়া রোনালদো কাছ থেকে বল জালে পাঠান। এই গোলেই তিনি হয়ে যান বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২-এর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোল, ফুটবল ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা আগে কেউ দেখাতে পারেননি।

প্রথম গোলে রোনালদো পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিওর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা স্পর্শ করেন। ইউসেবিও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে ৯ গোল করেছিলেন। রোনালদোও প্রথম গোলের পর সেই সংখ্যায় পৌঁছান। তবে অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি। ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। সেই গোলেই তিনি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে পর্তুগালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়ে যান। বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল এখন ১০।

তৃতীয় রেকর্ডটি বয়সের। ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনালদো হয়ে যান বিশ্বকাপে ব্রেস করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার। এক রাতেই তাই তিনি লিখলেন তিন অধ্যায়: ছয় বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড়, পর্তুগালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা, আর বিশ্বকাপে জোড়া গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার।

রেকর্ডের বাইরে এই পারফরম্যান্সের মানসিক গুরুত্বও কম নয়। প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বয়স, গতি, দলে তার জায়গা, সবকিছু নিয়েই আলোচনা চলছিল। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুরু থেকেই তাকে বেশি প্রাণবন্ত দেখা যায়। প্রথম সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারলেও পরের দুটিতে ছিলেন নির্মম। প্রথম গোলটি ছিল পজিশনিংয়ের, দ্বিতীয়টি দৌড় ও ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ের।

পর্তুগালও ছিল আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি ধারালো। বলের গতি ছিল বেশি, প্রান্ত বদল ছিল দ্রুত, মাঝমাঠে ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। ব্রুনো ফার্নান্দেস আক্রমণে ছন্দ দেন, কানসেলো ও নুনো মেন্দেস দুই দিক দিয়ে চাপ তৈরি করেন। ১৭ মিনিটে মেন্দেসের ফ্রি-কিক থেকে গোল পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

উজবেকিস্তান ২৯ মিনিটে একবার ম্যাচে ফেরার আশাও দেখিয়েছিল। আজিজ গনিয়েভ দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান। কিন্তু বিল্ডআপে ফাউলের কারণে ভিএআর দেখে গোলটি বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পর্তুগালের হাতে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। এরপর ৮৭ মিনিটে বদলি নেমে রাফায়েল লেয়াও গোল করে স্কোরলাইন ৫-০ করেন। কিন্তু ম্যাচের প্রধান গল্প ততক্ষণে লেখা হয়ে গেছে। সেটি রোনালদোর রাত, রোনালদোর রেকর্ড, রোনালদোর জবাব।

আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। রোনালদো দীর্ঘদিন ধরেই ১ হাজার ক্যারিয়ার গোলের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সেই লক্ষ্য আরও কাছে এসেছে।

হিসেবে।