মেজাজ ভালো ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এই দুই খাবার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মেজাজ ভালো ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এই দুই খাবার
ছবি : সংগৃহীত

বিকেলের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ কফির সঙ্গে এক টুকরো ডার্ক চকলেট খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। স্বাদ, আরাম এবং সামান্য শক্তি পাওয়ার জন্য এই জুটির জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এটি শুধু সুস্বাদু একটি খাবারের সংমিশ্রণ নয়, এর পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণও।

Advertisement

ভারতীয় পুষ্টিবিদ পুজা মাখিজাসম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন কেন কফি ও ডার্ক চকলেট একসঙ্গে এত ভালো কাজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই বিভিন্ন খাবারের সংমিশ্রণকে ওজন কমানোর সহজ উপায় বা ডিটক্স ট্রিক হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে তার মতে, এই জুটি সে ধরনের কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়।

তিনি বলেন, কফি ও ডার্ক চকলেটের সংমিশ্রণ কাকতালীয় নয়। এদের কার্যকারিতার পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

কী কারণে এই সংমিশ্রণ বিশেষ?

কফির প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ক্যাফেইন। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং মনোযোগ, সতর্কতা ও শক্তির মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি সজাগ এবং মনোযোগী অনুভব করে।

অন্যদিকে ডার্ক চকলেটে থাকে ফ্ল্যাভানলস এবং থিওব্রোমিন নামের কিছু প্রাকৃতিক যৌগ। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে এবং মানসিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।

পূজা মাখিজার ভাষায়, ক্যাফেইন মনোযোগ, একাগ্রতা এবং শক্তি বাড়ায়, আর ডার্ক চকলেটের ফ্ল্যাভানলস ও থিওব্রোমিন রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে দুটি একসঙ্গে গ্রহণ করলে মানুষ কিছুটা বেশি মনোযোগী এবং ইতিবাচক অনুভব করতে পারে।

শুধু শক্তি নয়, আরও কিছু সুবিধা

ডার্ক চকলেটের থিওব্রোমিন ক্যাফেইনের তুলনায় তুলনামূলক মৃদু কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এ কারণেই অনেক সময় চকলেট খাওয়ার পর শক্তি পাওয়া গেলেও তা হঠাৎ তীব্রভাবে বাড়ে না বা দ্রুত কমেও যায় না।

অন্যদিকে কফি পলিফেনলের অন্যতম সমৃদ্ধ খাদ্য উৎস হিসেবে পরিচিত। পলিফেনল হলো উদ্ভিদজাত যৌগ, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

এই দুটি উপাদান একসঙ্গে গ্রহণ করলে তা সাময়িকভাবে মনোযোগ বৃদ্ধি, মানসিক সতেজতা এবং ভালো মেজাজ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

এটি কি ওজন কমানোর কোনো গোপন উপায়?

পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। কফি ও ডার্ক চকলেটের এই সংমিশ্রণকে ওজন কমানোর ম্যাজিক উপায়, ফ্যাট বার্নার বা ডিটক্স টুল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বর্তমানে এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যা বলে যে এই জুটি সরাসরি ওজন কমিয়ে দেয়।

বরং এটি এমন একটি খাবারের সংমিশ্রণ, যেখানে স্বাদ ও পুষ্টিবিজ্ঞানের একটি সুন্দর ভারসাম্য দেখা যায়। অর্থাৎ এটি উপভোগ্য হওয়ার পাশাপাশি কিছু ইতিবাচক শারীরবৃত্তীয় প্রভাবও রাখতে পারে।

ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়ার সময় কী খেয়াল রাখবেন?

সব ধরনের চকলেট একই রকম নয়। বেশি উপকার পেতে হলে তুলনামূলক বেশি কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়া ভালো। সাধারণত ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেটে ফ্ল্যাভানল ও থিওব্রোমিনের পরিমাণ বেশি থাকে।

তবে পরিমাণের দিকেও নজর রাখা জরুরি। অতিরিক্ত কফি বা অতিরিক্ত চকলেট খেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এক কাপ কফি আর এক টুকরো ডার্ক চকলেট শুধু সুস্বাদু বিকেলের নাস্তা নয়। ক্যাফেইন, ফ্ল্যাভানলস এবং থিওব্রোমিনের মতো উপাদানের কারণে এই জুটি মনোযোগ বাড়াতে, সাময়িক শক্তি জোগাতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এটিকে কোনো অলৌকিক স্বাস্থ্য উপায় বা দ্রুত ওজন কমানোর কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে উপভোগ করা হলে এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও আনন্দদায়ক একটি খাদ্যাভ্যাসের অংশ।

সূত্র: এনডিটিভি