‘বিজেপি চেয়েছিল আমার হার্ট অ্যাটাক হোক, তাদের শেষ দেখে ছাড়ব’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘বিজেপি চেয়েছিল আমার হার্ট অ্যাটাক হোক, তাদের শেষ দেখে ছাড়ব’
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি) শুরু হওয়া ভাঙন এখনও থামেনি। দলটির বিধায়ক মদন মিত্র এবার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শীর্ষ নেতাদের পালাক্রমে দলছুটের ঘটনায় এবার আর নিশ্চুপ থাকতে পারলেন না দলনেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) একহাত নিলেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যারা (দল ছেড়ে) যেতে চায়, তারা যেতে পারে’।

এ সময় তিনি দাবি করেন যে, বিজেপির হাইকমান্ড চেয়েছিলেন তিনি যেন হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মমতা বলেন, ‘বিজেপি চেয়েছিল আমার হার্ট অ্যাটাক হোক, তোমাদের শেষ না দেখা পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব।’

তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক পরিবন ও ক্রীড়া মন্ত্রী মদন মিত্রের দলত্যাগের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করার পরপরই তিনি দল ছাড়েন। মমতা স্পষ্ট করেছেন, মিত্রের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ভূমিকা বা সম্পর্ক নেই।

ফেসবুক লাইভে এসে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, অভিষেক ও তার পরিবারের সদস্যদের বারবার হেনস্তা ও কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তলব করা সত্ত্বেও তিনি মাথা নত করেননি।

আপসের মাধ্যমে ‘মুক্তি’ না খুঁজে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভাতিজার প্রশংসা করে মমতা বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটা অজুহাতে পরিণত করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের পর্যন্ত তলব করা হয়েছিল। তিনি চাইলে (বিজেপির সঙ্গে) আপস করে স্বস্তি পেতে পারতেন। কিন্তু তিনি যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি যেভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তাতে তার সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।’

দলের কঠিন সময়ে দলত্যাগীদের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বলেন, “বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আমি আমার ‘বিবেক’ বিক্রি করিনি।”

তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপির সঙ্গে আপস করতে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে ক্রমাগত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। অন্য দলত্যাগীদের প্রতি স্পষ্ট কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আপস করতাম, তাহলে আমাদের এত নির্যাতনের শিকার হতে হতো না। যারা আপস করেছে, তাদের নিজেদেরও পিঠে অনেক বোঝা ও মালপত্র (দুর্নীতির ফাইল) আছে।’

বিজেপি তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশকে ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে দলবদল করাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় আমাদের এখনো ১৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। যেসব সংসদ সদস্য ‘সেটিং কোম্পানিতে’ (বিজেপিতে) যোগ দিয়েছেন, তারা মূলত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ভয় পেয়েই এমনটা করেছেন।”

মদন মিত্রের দলত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে তাকে আমাদের ছেড়ে চলে যেতে হলো। তার দল ছাড়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তদন্তকারীরা তার ছেলে ও স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছে। সম্ভবত সেই কারণে তিনি মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।’

এদিকে মদন মিত্র তৃণমূল শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী দলে যোগ দিয়ে জানান, তিনি ‘শুধু বিধানসভায় নিজের ঘর বদলেছেন’। তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ছয় মাসের জন্য সরে দাঁড়ানোর’ যে দাবি তিনি করেছিলেন, তা গৃহীত না হওয়ায় মমতার দল ছাড়লেন বলে দাবি করেছেন মদন মিত্র।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস