টানা ১৮ দিন অনশনে ওয়াংচুক, প্রাণ বিপর্যয়ের শঙ্কা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
টানা ১৮ দিন অনশনে ওয়াংচুক, প্রাণ বিপর্যয়ের শঙ্কা
নয়াদিল্লিতে টানা ১৮ দিন ধরে অনশন করছেন পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে। এমতাবস্থায় বুধবার (১৫ জুলাই) নয়াদিল্লিতে তার অনির্দিষ্টকালের অনশনের ১৮তম দিন পূর্ণ হলো। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছে। আদালত সেই আবেদন আমলে নিয়েছেন।

জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এ প্রশ্ন ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ২৫ দিনব্যাপী এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অনশন করছেন ওয়াংচুক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই খবর জানিয়েছে।

ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনি দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অনশনের কারণে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের যে অবনতি ঘটেছে, তা বর্তমানে ‘প্রাণঘাতী’ রূপ নিয়েছে। তার জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনে জোরপূর্বক খাওয়ানোর মাধ্যমে হলেও তাকে প্রয়োজনীয় তরল পুষ্টি, প্রোটিন ও ভিটামিন সরবরাহ করতে সরকারকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনকারী যুক্তি দেন, ভারতের সংবিধানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দেওয়া হলেও কোনো নাগরিককে স্বেচ্ছায় জীবনাবসান বা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখা রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। আবেদনে ওয়াংচুকের এই অনশনকে জাপানি আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যার পরিভাষা ‘হারাকিরি’-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারকে নোটিশ জারি করেছেন। আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে, যন্তর মন্তরে সমবেত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শশী থারুর ওয়াংচুককে তার এই অনশন ভাঙার সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যে ‘জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছে’ এবং এখন আন্দোলনটি সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক চ্যানেলের মাধ্যমে চালিয়ে নেওয়া উচিত।

থারুর লিখেছেন, ‘শ্রী সোনম ওয়াংচুক-জি, আপনার কাছে আমার আন্তরিক আবেদন যে, অনুগ্রহ করে আপনার অনশন ভাঙুন। আপনি জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন; অনশনের উদ্দেশ্যই তো এটা। সামনের দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য ভারতের আপনার কণ্ঠস্বর অত্যন্ত প্রয়োজন।’

অনশনরত এই সমাজকর্মীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি ওয়াংচুককে সুস্থ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই লড়াইটা আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ অভিনেত্রী সোনি রাজদান ও শ্রেয়া ধনবন্তরীও তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছেন। শ্রেয়া তার পোস্টে বলেন, ‘একটি উদাসীন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তি দিয়ে বোঝানো যায় না।’

এ ছাড়া অভিনেতা অভয় দেওল, রুবিনা দিলাইক ও পূজা বাত্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোনম ওয়াংচুককে ‘প্রকৃত নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনগণের মাঝে জনমত গড়ার চেষ্টা করছেন। গীতিকার বরুণ গ্রোভার অহিংস প্রতিরোধের মুখে ক্ষমতাবানদের ‘অসীম হিংসার ক্ষুধা’র তীব্র সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, আরেক গীতিকার স্বানন্দ কিরকিরে প্রশ্ন তুলেছেন, নিট পরীক্ষা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের পাশে কেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এখনো জোরালোভাবে এসে দাঁড়ায়নি।

এসবের জবাবে সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘গণতন্ত্র কঠোরতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহানুভূতি ও করুণা দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।’ নিজের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকি সত্ত্বেও আয়োজকেরা পিছু হটছেন না। নিট বিতর্ক নিয়ে দাবি আদায়ে আগামী ২০ জুলাই ভারতের সংসদ অভিমুখে বিশাল মিছিল করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা।