জিম্বাবুয়ের কাছে টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের বড় হার

শুরুর বিপর্যয়ের পর ইয়াসির আলী লড়াই করেছিলেন। তাকে কিছুটা সঙ্গ দিয়েছিলেন মেহেদী হাসানও। কিন্তু দুজনের বিদায়ের পর আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। সেই চাপ সামলাতে না পেরে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের ৬ উইকেটে ১৭০ রানের জবাবে বাংলাদেশ এক ওভার বাকি থাকতেই ১৩৮ রানে অলআউট হয়। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা।
১৭১ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের শুরুটা আশাজাগানিয়া ছিল না। উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ রান এলেও রান তোলার গতি ছিল মূলত তানজিদ হাসান তামিম নির্ভর। অন্য প্রান্তে ধুঁকতে থাকা সাইফ হাসান ১৫ বলে ১২ রান করে রিচার্ড এনগারাভার শিকার হন।
একই ওভারের শেষ বলে ফেরেন তানজিদও। তার ৮ বলে ১৬ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি চার। পরের ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে পারভেজ হোসেন ইমন ফিরলে ৪.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৪।
সেখান থেকে অধিনায়ক হৃদয়কে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন ইয়াসির। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৩৯ রান। কিন্তু ১৩ বলে ১৪ রান করে হৃদয় আউট হওয়ার পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নুরুল হাসান সোহানও করেন মাত্র ৩ রান।
১০.৩ ওভারে ৭৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন ইয়াসির ও মেহেদী। শুরুতে সময় নিলেও পরে তিনটি ছক্কা মেরে প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেন ইয়াসির। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ৩৭ বলের জুটিতে আসে ৫২ রান।
তবে জয়ের জন্য তখনও কঠিন সমীকরণের সামনে ছিল বাংলাদেশ। ১৮ বলে তিনটি চারে ১৯ রান করে মুজারাবানির শিকার হন মেহেদী। পরের ওভারের প্রথম বলেই ইয়াসিরকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন এনগারাভা।
৩৮ বলে দুই চার ও তিন ছক্কায় ৫৪ রান করেন ইয়াসির। তার বিদায়ের সময় বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৭ বলে ৪১ রান। এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ ও নাহিদ রানাকে দ্রুত ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের দুই পেসার।
এনগারাভা ২৬ রানে এবং মুজারাবানি মাত্র ১৭ রানে নেন চারটি করে উইকেট। মুজারাবানির চার ওভারের স্পেলে ছিল একটি মেডেনও।
এর আগে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠান হৃদয়। প্রথম ছয় ওভারে ১ উইকেটে ৫৪ রান তুলে স্বাগতিকদের ভালো শুরু এনে দেন ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন বেনেট। রায়ান বার্ল ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
নাহিদ পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে একসময় জিম্বাবুয়েকে ৬ উইকেটে ১৩৯ রানে নামিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু শেষ ১৫ বলে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩১ রান তোলে স্বাগতিকেরা। বিশেষ করে নাহিদের করা শেষ ওভারে চারটি চারসহ ১৮ রান নেন ব্র্যাড ইভান্স ও বার্ল। ১০ বলে চারটি চারে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ইভান্স।
শেষ ওভারে খরুচে হলেও নাহিদ ২৬ রানে নেন চার উইকেট। সাইফউদ্দিনের শিকার দুটি। তবে তাঁদের সেই প্রচেষ্টা ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত আর কাজে আসেনি।




