লর্ডসের প্রথম নারী টেস্টে ভারতের ঐতিহাসিক জয়

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
লর্ডসের প্রথম নারী টেস্টে ভারতের ঐতিহাসিক জয়
ছবি: সংগৃহীত

নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচটি স্মরণীয় জয়ে রাঙাল ভারত। ৪৫৭ রানের অসম্ভবপ্রায় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৬ রানে অলআউট হয়েছে। ফলে হারমানপ্রীত কৌরের দল জয় পেয়েছে ২৭০ রানে।

তৃতীয় দিনের ৬ উইকেটে ১৩০ রান নিয়ে সোমবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের ম্যাচ বাঁচানোর ক্ষীণ আশা নির্ভর করছিল অ্যামি জোন্সের ওপর। কিন্তু আগের দিনের অপরাজিত ৫২ রানের সঙ্গে মাত্র ২ রান যোগ করেই স্নেহ রানার বলে ফিরে যান তিনি।

জোন্সের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। দীপ্তি শর্মার ঘূর্ণিতে বোল্ড হন ইসি ওং ও লরেন বেল। তবে এক প্রান্ত ধরে ভারতের জয় কিছুটা বিলম্বিত করেন সোফি একলেস্টোন।

লরেন ফিলারকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন একলেস্টোন। ৬১ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। কিন্তু ইংল্যান্ডের পরাজয় এড়ানোর জন্য সেই লড়াই যথেষ্ট ছিল না। দলটি ১৮৬ রানে থামলে লর্ডসের মাঠে ইতিহাস গড়ে ভারত।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৮৫ রান করেছিল ভারত। স্মৃতি মান্ধানা ৮৩, অধিনায়ক হারমানপ্রীত ৫৮ এবং দীপ্তি ৫৭ রান করেন। একলেস্টোনের ঘূর্ণিতে একসময় ৩ উইকেটে ১৯০ থেকে ২৮৫ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

তবে ভারতকে দ্রুত ম্যাচে ফেরান ক্রান্তি গৌড়। ডানহাতি এই পেসার ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৭০ রানে গুটিয়ে দেন। স্বাগতিকদের হয়ে অ্যামি জোন্স ৫২ ও ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ৪৪ রান করেন।

এই পাঁচ উইকেট নিয়ে লর্ডসের টেস্ট অনার্স বোর্ডে নাম তোলা প্রথম নারী ক্রিকেটার হন ক্রান্তি। প্রথম ইনিংস শেষে ভারত পায় ১১৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে সফরকারীরা। মান্ধানার ৬৯ রানের পর ইতিহাস গড়েন যস্তিকা ভাটিয়া। ১৫৮ বলে ১৪টি চারে ১১৩ রান করেন তিনি। লর্ডসে টেস্ট শতক করা প্রথম নারী ক্রিকেটারও যস্তিকা।

রিচা ঘোষের অপরাজিত অর্ধশতকের সুবাদে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় ৪৫৭ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ ইনিংসে নারী টেস্টের আগের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার চেয়েও যা ছিল দ্বিগুণের বেশি।

লক্ষ্য তাড়ার শুরুতেই ক্রান্তির বলে প্রথম বলেই বোল্ড হন ট্যামি বিউমন্ট। হিদার নাইট করেন ১৩ রান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তৃতীয় দিনের শেষেই ইংল্যান্ডের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

লর্ডসের এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বিউমন্ট ও নাইট। দুজনকেই তাদের শেষ ইনিংসে গার্ড অব অনার দেয় ভারতীয় দল। তবে বিদায়ী ম্যাচটি জয় কিংবা ড্র দিয়ে স্মরণীয় করতে পারলেন না তারা।

নারীদের প্রথম লর্ডস টেস্টের পাশাপাশি ম্যাচটিতে তৈরি হয়েছে একাধিক ইতিহাস। ক্রান্তি প্রথম নারী হিসেবে টেস্ট বোলিং অনার্স বোর্ডে এবং যস্তিকা প্রথম নারী ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ব্যাটিং অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছেন।