জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: মিশিগান প্রবাসীদের প্রত্যাশা ও আক্ষেপ

সুলায়মান আল মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: মিশিগান প্রবাসীদের প্রত্যাশা ও আক্ষেপ
মিশিগানে জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের সমর্থন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ‘জুলাই’ এখন আর শুধু একটি মাস নয়, এটি এক গভীর রাজনৈতিক স্মৃতি, ত্যাগ ও প্রত্যাশার নাম। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া যে গণ-আন্দোলন পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নেয়, তার দুই বছর পূর্তিতে প্রবাসীদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্মৃতি, আবেগ ও মূল্যায়নের মুহূর্ত।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন অল্প সময়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, তরুণ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে এসে দাঁড়ায়। দমন-পীড়ন, কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ এবং প্রাণহানির মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। টানা ৩৬ দিনের এই গণ-আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়।

এই আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছে যায় হাজার মাইল দূরের মিশিগানেও। হ্যামট্রামেক সিটি হলের সামনে মিশিগান বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্পের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যান্ড স্টুডেন্ট আয়োজিত প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংহতি কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রবাসীদের বড় একটি অংশ স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও তারা এক কণ্ঠে দাবি জানান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য। আন্দোলনের এক পর্যায়ে মিশিগান প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর মতো কর্মসূচিও আলোচনায় আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

দুই বছর পরও সেই জুলাইয়ের স্মৃতি মিশিগানের প্রবাসীদের মনে অম্লান হয়ে আছে। তাদের ভাষ্য, আন্দোলনের মাধ্যমে যে বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত।

জুলাই যোদ্ধারা মনে করেন, এখনই প্রয়োজন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছ তদন্ত এবং সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।

তাদের বিশ্বাস, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রক্তে লেখা সেই জুলাইয়ের ইতিহাস প্রবাসীদের কাছে শুধু অতীত নয়। এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক অনিবার্য নৈতিক দায়। শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের বেদনা এবং কোটি মানুষের প্রত্যাশা সব মিলিয়ে এই ইতিহাস আগামী দিনের রাষ্ট্রগঠনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।