ম্যাককালামের ছাঁটাইয়ে শেষ ইংল্যান্ডের বাজবল যুগ

বেন স্টোকসের অবসরের দুই সপ্তাহের মধ্যেই বড় আরেকটি পরিবর্তন এলো ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ছাঁটাই করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। এর মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে স্টোকস-ম্যাককালামের বহুল আলোচিত বাজবল যুগেরও সমাপ্তি ঘটল।
তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক এখনই শেষ হচ্ছে না ম্যাককালামের। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক।
ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও সেটিকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন ম্যাককালাম। ইংল্যান্ডের টেস্ট দলকে কোচিং করানো তার জন্য সম্মান ও গর্বের অভিজ্ঞতা ছিল উল্লেখ করে এখন সাদা বলের দল দুটিকে এগিয়ে নেওয়ার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
২০২২ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যাককালাম। একই সময়ে অধিনায়ক করা হয় স্টোকসকে। তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ১৭ টেস্টে মাত্র একটি জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের নতুন দর্শনে দ্রুতই বদলে যায় দলটি।
ম্যাককালাম ও স্টোকসের অধীনে প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতেই জয় পায় ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ, ভারতের বিপক্ষে এজবাস্টন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে আসে স্মরণীয় সব জয়। পাকিস্তানের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানের সিরিজ জয় ছিল সেই সময়ের অন্যতম সেরা অর্জন।
তবে শুরুর সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাককালামের শেষ ১১ টেস্টে তাদের জয় মাত্র তিনটি। সব মিলিয়ে তাঁর অধীনে ৪৯ টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় ২৭টি, হার ২০টি এবং ড্র দুটি।
অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে হারের পরও ম্যাককালাম, স্টোকস ও ক্রিকেট পরিচালক রব কিকে দায়িত্বে রেখেছিল ইসিবি। কিন্তু দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। গত ১৪ বছরের মধ্যে অন্তত তিন ম্যাচের কোনো ঘরোয়া টেস্ট সিরিজে এটিই ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম পরাজয়।
মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি একের পর এক মাঠের বাইরের ঘটনাও ইংল্যান্ডের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে ঘিরে নাইটক্লাবের ঘটনা এবং এরপর স্টোকসের হঠাৎ অবসর দলের নেতৃত্বে বড় শূন্যতা তৈরি করে।
এখন একই সঙ্গে অধিনায়ক ও প্রধান কোচ ছাড়াই রয়েছে ইংল্যান্ডের টেস্ট দল। আগামী ১৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের পরবর্তী সিরিজ শুরু হবে। নতুন কোচ ও অধিনায়ক নিয়োগের জন্য তাই খুব বেশি সময় পাচ্ছে না ইসিবি।
স্টোকসের উত্তরসূরি হিসেবে হ্যারি ব্রুককে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে নতুন প্রধান কোচের মতামতের ওপর অধিনায়ক নির্বাচন নির্ভর করতে পারে। কোচ হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে ম্যাককালামকে সেই দায়িত্বে রেখে দিয়েছে ইসিবি। তার অধীনেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ইংল্যান্ড। সাদা বলের দলের সঙ্গে ম্যাককালামের বর্তমান চুক্তি আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
স্টোকসের নেতৃত্ব এবং ম্যাককালামের সাহসী দর্শনে যে অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল, সেটি ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন জীবন দিয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিক ব্যর্থতা, দুর্বল প্রস্তুতি ও মাঠের বাইরের বিতর্ক শেষ পর্যন্ত সেই বাজবল যুগের পরিণতি লিখে দিল।





