সমুদ্রে নিখোঁজের ৮ দিন পর ট্রলারে মিলল ৯ জেলের গলিত মরদেহ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
সমুদ্রে নিখোঁজের ৮ দিন পর ট্রলারে মিলল ৯ জেলের গলিত মরদেহ
সমুদ্রে ভাসমান মাছ ধরার ট্রলার। ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে উদ্ধার করা হয়েছে আট দিনেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা একটি মাছ ধরার ট্রলার। ডুবে যাওয়া ওই ট্রলার থেকে একে একে ৯ জন মৃত জেলের গলিত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ট্রলারটিতে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইকোমধ্যে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ বাকি ছয়জন মৎস্যজীবীর সন্ধানে সমুদ্র ও উপকূল এলাকাতেও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, দিঘার শংকরপুর বন্দর থেকে গত ২ জুলাই মাছ ধরার উদ্দেশে ১৫ জন জেলে নিয়ে রওনা দিয়েছিল ‘মা কালী’ নামের একটি ট্রলার। এরপর ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারটির সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ট্রলারটির খোঁজ না মেলায় পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বনদপ্তর ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোর যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।

শনিবার (১১ জলাই) থেকে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর চিত্রক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে অংশ নেন রামগঙ্গা রেঞ্জের রেঞ্জার কবীর হোসেনসহ বনদপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক, বনকর্মী এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা। ড্রোনের সাহায্যে দীর্ঘ তল্লাশি চালানোর পর রবিবার ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে চুলকাঠির জঙ্গলের কাছে বাঘেরচরে উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটি পাওয়া যায়।

বনদপ্তর, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানা, সুন্দরবন পুলিশ, উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টায় উল্টে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। রবিবার সন্ধ্যায় এটি পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরের সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতভর অভিযান চালিয়ে ট্রলারের ভেতরে জমে থাকা পানি পাম্পের সাহায্যে বের করা হয়। পানি বের করার পর ভেতরে তল্লাশি চালাতে একে একে ৯ জেলের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়।

এখনও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ অন্য জেলেদের দেহাংশ ট্রলারে এখনও আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই কারণে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালেও পানি পাম্প করে ট্রলারের ভেতরে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।