৪০ বছরের সর্বনিম্নে ইয়েন, হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় জাপান

দীর্ঘদিন ধরেই মান কমছে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধানের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাটির ওপর আরও চাপ বেড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে জাপানি ইয়েন। এতে বাজারে জাপান সরকারের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৬২ দশমিক ৪১-এ নেমে এসেছে। ১৯৮৬ সালের পর এটিই সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে এর বিনিময় হার দাঁড়ায় ১৬২ দশমিক ২৩ ইয়েনে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইয়েনের মূল্য আরও প্রায় ২ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। এতে টানা চতুর্থ প্রান্তিকেও মুদ্রাটির দরপতন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারের বড় ব্যবধান ইয়েনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা বলেন, পরিস্থিতির ওপর সরকার নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা কৌশলবিদ ক্যারল কং বলেন, এখন প্রশ্ন হস্তক্ষেপ হবে কি না, তা নয়; বরং প্রশ্ন হলো, কখন হবে। তবে তার মতে, হস্তক্ষেপ হলেও ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার ধারা বদলানোর সম্ভাবনা কম। তিনি ২০২৭ সালের শুরুতে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৬৪-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন।
গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এতে সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তাও বেড়েছে। ব্যাংক অব জাপানের ১১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বাজার হস্তক্ষেপ এবং সুদের হার বাড়ানোর পরও মুদ্রাটির ওপর চাপ কমেনি।
মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা ইয়েনের দর আরও কমবে এমন প্রত্যাশায় প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের শর্ট পজিশন নিয়েছেন, যা গত দুই বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিল ও মে মাসে জাপানের হস্তক্ষেপ সাময়িকভাবে ইয়েনকে শক্তিশালী করলেও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, এমন প্রত্যাশায় আবারও মুদ্রাটি দুর্বল হয়েছে।
এখন বাজারের নজর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। টানা তিন মাস শক্তিশালী কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে কঠোর অবস্থানে থাকা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতির বিপরীতে গিয়ে সেই হস্তক্ষেপের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: রয়টার্স






