দুই বাংলার শিল্পীদের মেলবন্ধনে মঞ্চস্থ হলো ‘কপালকুণ্ডলা’ ও ‘টুসু-ভাদু’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
দুই বাংলার শিল্পীদের মেলবন্ধনে মঞ্চস্থ হলো ‘কপালকুণ্ডলা’ ও ‘টুসু-ভাদু’
আহমেদাবাদের প্রকাশ স্কুল অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ হচ্ছে দুই বাংলার শিল্পীদের পরিবেশনা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের আহমেদাবাদে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো বাংলার সাহিত্য, নাট্যচর্চা ও লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।

Advertisement

রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রকাশ স্কুল অডিটোরিয়ামে ‘বেঙ্গল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’ (আহমেদাবাদ কালীবাড়ি) আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সেখানে মঞ্চস্থ হয় দুটি ব্যতিক্রমী প্রযোজনা নাটক ‘কপালকুণ্ডলা’ এবং নৃত্যনাট্য ‘টুসু-ভাদু’।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘ ৮৮ বছর ধরে প্রবাসী বাঙালির মাঝে বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনটিও দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক মঞ্চস্থ হয়। এর নাট্যরূপ, সম্পাদনা ও নির্দেশনায় ছিলেন প্রসেনজিৎ দত্ত। দ্বিতীয় পর্বে পরিবেশিত হয় গ্রামবাংলার লোকঐতিহ্যভিত্তিক নৃত্যনাট্য ‘টুসু-ভাদু’।

প্রসেনজিৎ দত্তের রচনায় এবং ইন্দ্রাণী গাঙ্গুলীর নির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে নির্মিত এই প্রযোজনায় লোকসংস্কৃতি, প্রেম ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক প্রাণবন্তভাবে ফুটে ওঠে। অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন শ্বেতা কর্মকার।

এবারের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের তিন আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ।

ভারতের গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিল্পী অভ্র বড়ুয়া, রশ্নি সিনহা ও প্রণয় চৌধুরী এই প্রযোজনার নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন। তাদের সঙ্গে দুই বাংলার প্রায় ৬০ জন আমন্ত্রিত শিল্পী মঞ্চ মাতান।

প্রায় ৫০০ দর্শকের উপস্থিতিতে নাটক ও নৃত্যনাট্য শেষে দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ শুধু বাংলার সাহিত্য ও লোকঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে না, বরং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।