Advertisement

গাজাকে বিভক্ত করে ১৪ মাইলের প্রাচীর নির্মাণ করছে ইসরায়েল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গাজাকে বিভক্ত করে ১৪ মাইলের প্রাচীর নির্মাণ করছে ইসরায়েল
দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক নির্মিত মাটির প্রাচীর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রায় ১৪ মাইল (২৩ কিলোমিটার) দীর্ঘ এক সুবিশাল প্রাচীর (ব্যারিকেড) নির্মাণ করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসে (এপি) এক বিশেষ বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এই প্রাচীর গাজা উপত্যকার প্রধান দুটি অংশকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও তথ্য বিশ্লেষণ করে এপি জানিয়েছে, মধ্য গাজা উপত্যকার যেসব এলাকায় ফিলিস্তিনি বসতি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মূলত সেসব এলাকা দিয়েই তৈরি করা হয়েছে এই প্রাচীর। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১১ কিলোমিটার প্রশস্ত গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি দৈর্ঘ্যজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে ২৩ কিলোমিটারের এই মাটির প্রাচীর।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি কর্তৃক সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই দক্ষিণ গাজায় এই প্রাচীরটির একটি অংশ ২ কিলোমিটারের বেশি সম্প্রসারিত করা হয়েছে। গত ১ জুলাই এর দৈর্ঘ্য যেখানে ছিল মাত্র ৫০০ মিটার (০.৩ মাইল), সেখানে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তা বাড়িয়ে করা হয় ২.৪ কিলোমিটার (১.৫ মাইল)।

এর মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাফাহর ধ্বংসস্তূপকে উপকূলীয় এলাকা ‘আল-মাওয়াসি’ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, যেখানে বর্তমানে ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতদের বৃহত্তম কয়েকটি তাঁবু শিবির অবস্থিত।

এপি সতর্ক করে বলেছে, ‘নির্মাণকাজ যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তবে এটি খুব শিগগিরই প্রাচীরটির দীর্ঘতম অংশের সঙ্গে যুক্ত হবে। যা দক্ষিণে খান ইউনিস শহর থেকে উত্তর দিকে গাজা শহরের কাছাকাছি পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটারজুড়ে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে বিস্তৃত।’

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এপির কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা তাদের ভাষায় তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ (ইয়েলো লাইন) বরাবর একটি প্রাচীর গড়ে তুলছে, যা মূলত ইসরায়েল-অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির নতুন সীমানা নির্দেশ করে।

আইডিএফের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, প্রাচীরের পাশাপাশি সীমানাসংলগ্ন এলাকায় উন্নত গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সমৃদ্ধ একটি বিশেষ ‘নিরাপত্তা বলয়’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এই প্রাচীরটি ঠিক কতদূর পর্যন্ত বাড়ানো হবে—এপির এমন প্রশ্নের জবাবে এর সুনির্দিষ্ট গতিপথ বা নকশা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইডিএফ।

তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, গাজার নিকটবর্তী ইসরায়েলি সৈন্য ও সীমান্ত জনবসতিগুলোকে রক্ষা করা এবং ফিলিস্তিনিদের অনুপ্রবেশ রোধ করাই এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।