চুক্তির পর ইরানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে শুক্রবার (২৫ জুন) ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের স্থাপনা ও উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এই সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমন্বয় বজায় রাখবে।
এদিকে, এই হামলার পরপর পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের একটি জেটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ইরানের হাতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উপায়ে উসকানি দিয়ে এই চুক্তি লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে। যদি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালায়, তবে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানি হামলার দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন)। অনিয়মের অভিযোগে ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে বলেন, তেহরান গত সপ্তাহে হওয়া চুক্তিটি লঙ্ঘন করেছে। ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘অযাচিত আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে সেন্টকম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তা পুরোপুরি মেনে চলছে। এই সমঝোতা স্মারক প্রয়োগ নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তারা আলোচনা করতে পারত। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সমালোচনা করে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির নীতির প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই খামখেয়ালি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত অনুশোচনা করতে হবে এবং পিছু হটতে হবে।
রয়টার্স বলছে, এরইমধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে এই আঞ্চলিক অশান্তির মধ্যে অন্য একটি ফ্রন্টে কিছুটা অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমার হামলার অবসান ঘটাতে ইসরায়েল ও লেবানন একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র হতে হবে এবং ইসরায়েল লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। যদিও চুক্তিটি কীভাবে মাঠে কার্যকর বা বলবৎ করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তিতে কোনো সহযোগিতা করবে না।






