পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক: শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সব দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ঘোষণা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা অথবা রাজ্যভাষা হিন্দির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সেই প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি বিধানসভায় অমিত শাহর চিঠিও তুলে ধরেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ বছর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ভারতীয় ভাষার সংরক্ষণ, বিকাশ ও ব্যাপক ব্যবহারের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, প্রশাসন, শিক্ষা ও জনজীবনে ভারতীয় ভাষার যথাযথ স্থান নিশ্চিত করা উচিত। কারণ, মানুষের নিজস্ব ভাষায় পরিচালিত হলেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকর হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত সব স্তরে ফাইল পরিচালনা, নোটিং, দাপ্তরিক চিঠিপত্র এবং সরকারি আদেশ বাংলায় করার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নাগরিকসেবা, ডিজিটাল প্রশাসন, আবেদনপত্রের নমুনা, সনদ, পোর্টাল, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, প্রশিক্ষণসামগ্রী, জনসাধারণের জন্য নির্দেশিকা, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং অন্যান্য সরকারি যোগাযোগে বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত নাগরিক সেবায়ও বাংলা ভাষার ব্যাপক ব্যবহার প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগে বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা অথবা রাজ্যভাষা হিন্দি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য সরকারের সব দপ্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। এ সময়ের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বাংলা ভাষায় যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলার পাশাপাশি হিন্দিতেও দাপ্তরিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হবে।
বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিধানসভার সব কার্যক্রম বাংলা ভাষায় পরিচালনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার এ উদ্যোগে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন।
.png)






