‘ছোট দেশ’ উল্লেখ করে ভারতকে সেরা সমর্থক বললেন নেতানিয়াহু

জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতকে রসিকতার ছলে ‘ছোট দেশ’ বলে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি ভারতকে ইসরায়েলের অন্যতম সেরা সমর্থক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইসরায়েলের কোনো শক্তিশালী মিত্র নেই—আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন সাম্প্রতিক দাবির জবাবে নেতানিয়াহু ভারতের এই বিশাল সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন রয়েছে। গাজা, ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই ইসরায়েলি নেতা। এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজের আন্তর্জাতিক বন্ধুদের শক্তির কথা জানান দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে, যেমন ভারত নামের একটি ছোট দেশ। সেখানে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন (১৪০ কোটি) মানুষ বাস করে। সৃষ্টিকর্তা জানেন, সেখানে আমাদের প্রতি কী প্রচণ্ড সমর্থন রয়েছে!
নেতানিয়াহু আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে যথেষ্ট সম্মান করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের পাওয়া সেরা বন্ধু বলে অভিহিত করেন।
তবে ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে আমি তার (ভ্যান্স) সব কথার সঙ্গে একমত এবং আমাকে এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ভ্যান্স ইসরায়েলকে তার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের সঙ্গে ঝামেলা না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তার সেই মন্তব্যের জের ধরে নেতানিয়াহুর এই প্রতিক্রিয়া এলো। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভারতের পক্ষ থেকে আসা সমর্থনে তিনি ভেসে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও তার দেশের আরও অনেক শক্তিশালী মিত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কারো নাম উল্লেখ না করে নেতানিয়াহু বলেন, অনেক দেশে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী প্রচার একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাইরে এমন বৈরী পরিবেশ থাকলেও পর্দার আড়ালের চিত্র ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, এই তথাকথিত দেশগুলোর নেতারা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করার জন্য প্রায় তাকে ফোন করেন। এমনকি তারা অনুরোধ করে বলেন, আপনার সামরিক বাহিনী যা করে, তার কিছু জিনিস আমাদেরও শিখিয়ে দিন।
নেতানিয়াহুর মতে, তাই সম্পর্কগুলো ঠিক তেমন নয় যেমনটা বাইরে থেকে মনে হয়। আমাদের অনেক অনেক বন্ধু রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে হোয়াইট হাউসে জেডি ভ্যান্সের দেওয়া বক্তব্যটি মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের সঙ্গে গত মাসে যুদ্ধ অবসানের এক বড় অগ্রগতি হিসেবে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই স্মারকের পক্ষে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেছিলেন, আমি যদি ইসরায়েল সরকারের ক্যাবিনেটে থাকতাম, তবে পুরো বিশ্বে আমার একমাত্র যে শক্তিশালী মিত্রটি অবশিষ্ট আছে, আমি হয়তো তার ওপর আক্রমণ করতাম না।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সই করা ওই সমঝোতা স্মারকে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে, তবুও একাধিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরায়েল সেই দাবি মেনে নেয়নি।
রোববার লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষা পেতে ইসরায়েলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করেছে। নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে বলেন, লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম আসলে ইসরায়েলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েছে। কারণ আমরা তাদের হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করি—হিজবুল্লাহর উগ্রপন্থীরা তাদের হত্যা করতে চায়। আমরা সব জায়গার খ্রিস্টানদের জন্যই একই কাজ করি।




