বিয়ের তিন মাসের মাথায় প্রেমিকার বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের আবাসন ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতে এবার হরিয়ানার গুরুগ্রামে ঘটেছে আরও একটি লোমহর্ষক ঘটনা। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক যুবক তার প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছে। এরপর তারা দুজনে একসঙ্গে সীমান্ত পার হয়ে নেপালে পালিয়ে যায়। পরে দেশে ফিরলে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামের মানেসার এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মানেসারে ২৫ বছর বয়সি ওই যুবক বিয়ের মাত্র তিন মাস পর তার প্রেমিকার সহায়তায় তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রেমিকার ভাড়া করা ঘরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেখানে তারা তাদের তিন বছরের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
বিয়ের তিন মাস পর নিখোঁজ স্ত্রী
ঘটনাটি গত ২২ মে প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন ভুক্তভোগী নারীর মা মানেসার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান, তার ২২ বছর বয়সি মেয়ের গত ফেব্রুয়ারিতে মানেসারের বাসিন্দা অঙ্কিতের সঙ্গে বিয়ে হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ মে থেকে ওই নারী নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবার সব জায়গায় খোঁজখবর নেয়। তারা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সন্তোষজনক সাড়া পায়নি। স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার সন্দেহ করে ভুক্তভোগী নারীর মা পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
পুলিশ ২২ মে মানেসারের একটি ঘর থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়।
তিন বছরের সম্পর্ক এবং হত্যার ছক
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, অঙ্কিত এবং রজনী গত তিন বছর ধরে সম্পর্কের মধ্যে ছিল।
তদন্তকারীরা জানান, এই যুগল রজনীর ভাড়া করা ঘরে বসে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। অপরাধের দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেই ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে দুই অভিযুক্ত মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি অপরাধের প্রায় দুই মাস আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল।
হত্যার পর নেপালে পলায়ন পরে দেশে গ্রেপ্তার
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যার পর প্রথমদিকে অঙ্কিত ও রজনী হরিদ্বারে পালিয়ে যায়। পরে তারা সীমান্ত পার হয়ে নেপালে চলে যায়।
পুলিশ পরে অভিযুক্ত স্বামী, গুরুগ্রামের মানেসারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি অঙ্কিত এবং তার ৩৮ বছর বয়সি প্রেমিকা রজনী দেবীকে গ্রেপ্তার করে। রজনী দেবী হরিয়ানার ঝাজ্জর জেলার বাসিন্দা।
তদন্তকারীদের মতে, অঙ্কিত মানেসারে একটি তামাকের দোকান চালায়। আর রজনী একই এলাকার একটি বিউটি পার্লারে কাজ করত।
অভিযুক্তরা গত ৩০ জুন ভারতে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত পলাতক ছিল। পরে মানেসারের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
উভয়কে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ এই মামলার সঙ্গে জড়িত অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি





