মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন বাভির আঘাত

চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন ‘বাভি’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে ঝড়টির কেন্দ্র উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের রোটা দ্বীপ অতিক্রম করে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে অঞ্চলটি দ্বিতীয়বারের মতো একটি শক্তিশালী সুপার টাইফুনের মুখোমুখি হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সুপার টাইফুন বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৮০ মাইলের বেশি (২৯০ কিলোমিটার), যা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য। রোটা দ্বীপে ঘণ্টায় ১৫০ মাইলের বেশি গতিতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
রোটা দ্বীপের প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এখান থেকে নিয়মিত বি-১, বি-২ ও বি-৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়। দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পাঁচটি আক্রমণাত্মক সাবমেরিন এবং সাত হাজারের বেশি সক্রিয় সেনাসদস্য রয়েছে।
টাইফুনের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী গুয়ামে সর্বোচ্চ মাত্রার দুর্যোগ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
একই সঙ্গে সাইপান ও টিনিয়ান দ্বীপেও ঘণ্টায় ৭৪ মাইলের বেশি গতির বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ দুটি দ্বীপ এখনও চলতি বছরের এপ্রিলে আঘাত হানা সুপার টাইফুন সিনলাকুর ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ওই টাইফনের ফলে বৃষ্টিপাত, ভয়াবহ বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
আবহাওয়া কর্মকর্তাদের ধারণা, বাভি তুলনামূলক দ্রুতগতিতে পশ্চিমমুখী হওয়ায় সোমবার বিকেলের মধ্যেই মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করবে। বর্তমানে এটি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৩ মাইল গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
টিনিয়ান দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানকার নর্থ ফিল্ড বিমানঘাঁটি থেকেই জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বহনকারী বি-২৯ বোমারু বিমান উড্ডয়ন করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে বিমানঘাঁটিটি পুনর্নির্মাণ করছে।





