ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পেলেন মন্ত্রীর পদমর্যাদা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর পদমর্যাদা পেয়েছেন। ব্যক্তিগত বিবেচনায় তাকে এই মর্যাদা দেয় ভারত সরকার।
বুধবার (২৪ জুন) ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মারকে বলা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগত বিবেচনায় টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে এ কারণে ভারতের বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ক্রমতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
সরকার জানিয়েছে, তার এই মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকল-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ভারতের প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না।
টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো ভারতের একটি সরকারি প্রটোকল তালিকা, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করা হয়।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচানোর জন্য পোড় খাওয়া রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে গত ১২ জুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন দীনেশ ত্রিবেদী।
ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে। গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন। সেতারবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় থাকার পর ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন।






