ক্রিপ্টোর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার অর্থ বিদেশে পাচার, গ্রেপ্তার ২

অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির দাবি, এই চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার জুয়ার লেনদেন পরিচালনা করত। কমিশন কেটে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি আভিযানিক দল গত ১২ জুলাই নড়াইল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকার মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও একই উপজেলার মালিয়াট এলাকার সুমন রায় (২৮)। এর মধ্যে জসিম উদ্দীন নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের ইউএসও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সিআইডির দাবি, সুমন রায় একটি বিদেশি অনলাইন বেটিং সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথমে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার রূপগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মুচিপোল এলাকার একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে জসিম উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে তুলারামপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমন রায়কে আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের ভেতর এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের প্রচারণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল এবং অনলাইন ক্যাসিনোভিত্তিক বেটিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া যায়।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করত। এসব এজেন্টের মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। এজেন্টরা কমিশন রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাঠিয়ে দিত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুইজন নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে সিআইডি। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম সংগ্রহ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সরবরাহ করতেন। এসব সিমের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তদন্তে তাদের জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনার সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। তদন্তকারীরা চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, অর্থপাচারের রুট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ করছেন।
এর আগে একই মামলায় গত ৭ জুন টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানএক (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩) এবং আবু জোবায়ের সানিকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সিআইডি বলছে, অনলাইন জুয়া, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলমান থাকবে এবং এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।





