প্রক্সি দিয়ে পাস, চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ২

প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি ও প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে কর অঞ্চল নোয়াখালীর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগদান করতে এসে দুই ভুয়া প্রার্থী আটক হয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) রাতে নোয়াখালীর মাইজদী বাজার এলাকার কর অঞ্চলের কার্যালয়ে কাগজপত্র যাচাই এবং হাতের লেখা পরীক্ষার পর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন (রোল: ১৫০০২৩১৯) এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া কামাল উদ্দিন। নাসফুর উল্যাহ সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর এলাকার বাসিন্দা এবং কামাল উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার গুল্যাখালী এলাকার মো. আনছারুল হকের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ জুন কর অঞ্চল নোয়াখালীর অধীনে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। মেডিকেল রিপোর্টসহ নির্বাচিতদের গত ২১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কর কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
নির্দেশনা অনুযায়ী তারা যোগদান করতে আসলে, দুটি পদে প্রথম স্থান অধিকার করা এই দুই প্রার্থীকে দেখে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। কারণ, মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে যোগদান করতে আসা ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল ছিল না। সন্দেহের একপর্যায়ে কর কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং হাতের লেখা যাচাই-বাছাই করলে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। পরে সুধারাম মডেল থানা-পুলিশ ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হলে তারা কর অফিসে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের একটি বড় জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে তাদের ১২ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এই চক্রটি বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি দিয়ে থাকে। জালিয়াতি এড়াতে তারা চাকরির আবেদন করার সময় চুক্তিকৃত প্রক্সি পরীক্ষার্থীর ছবি এডিট বা জালিয়াতি করে আবেদনপত্র জমা দেয়, যাতে পরীক্ষার সময় কোনো সন্দেহ না হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মো. জুলফিকার আলী রায়হান নামের এক ব্যক্তির ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হাতিয়া শাখা থেকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ঢাকার বনশ্রী শাখায় টাকা পরিশোধ করা হয়। কামাল উদ্দিনের পক্ষে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় আব্দুল হান্নান নামের এক যুবক অংশ নিয়েছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর জানান, বর্তমানে আটক দুজন সুধারাম মডেল থানা হেফাজতে রয়েছেন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই বড় জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।






