logo

রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ

রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক (ডানে) এবং ‘ছাত্র-জনতার’ ব্যানারে তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি (বাঁয়ে)। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ‘রাজশাহী আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে তাকে অবরুদ্ধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্ষে প্রবেশের পর উপাচার্যকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। স্বাক্ষর করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় কার্যালয় ছেড়ে মোটরসাইকেলে করে চলে যান।

ঘটনার সময় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পর তাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে কার্যালয়ে অবস্থান নেয়।

উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেইন বলেন, এ ঘটনার পর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ খোয়া গেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। চলতি বছরের আগস্ট মাসেও তার পদত্যাগের দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০২৪ সালে চার বছরের মেয়াদে রামেবি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই চিকিৎসকের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল।